আজ মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাহিদ রানার তোপের মুখে টিকতে পারলো না পাকিস্তান

editor
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ণ
নাহিদ রানার তোপের মুখে টিকতে পারলো না পাকিস্তান

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

স্বস্তি নিয়ে শেষ দিনের চা বিরতিতে গিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ সেশনে তাদের প্রয়োজন ছিল ১৫২ রান। হাতে ৭ উইকেট। ক্রিজে ছিলেন ৬৬ রান করা অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ও গতকাল বাংলাদেশের রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জ জানানো অধিনায়ক সালমান। তিনি অপরাজিত ছিলেন ২১ রানে। কিন্তু বিপত্তিটা বাধে শেষ সেশনেই। এই সেশনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রান।

তার তোপের মুখে আর টিকতে পারলো না পাকিস্তান। মাত্র ৪৭ রান করতেই বাকী ৭ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। ৪০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট, যা নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ইনিংসে অন্যরাও তাদের কাজটা করেছেন। তাইজুল ও তাসকিন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। মিরাজ নিয়েছেন ১ উইকেট। আর এতেই প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানে হারে তারা। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হাসান শান্ত বাহিনী।

২৬৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তার করা বলে কটবিহাইন্ড হন ইমাম। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। আর দলনেতা নেতা শান মাসুমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

Manual8 Ad Code

৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। এই জুটিতে আসে ৫১ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া ফজলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করেন ফজল। পরের ওভারেই সালমান আগাকে পরাস্থ করেন তাসকিন আহমেদ। সালমান করেন ৩৯ বলে ২৬ রান।

Manual2 Ad Code

৫ উইকেট হারিয়ে আরও একবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু হতে দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এই দুই ব্যাটারই করেন ১৫ করে রান। এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম।

Manual1 Ad Code

এরপর ১ রান করে হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট নেন নাহিদ।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি পাকিস্তান তোলে ৩৮৬ রান। ২৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থেকে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জয়। দেশের মাটিতে প্রথম। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই দুই দশকেরও বেশি সময়ে টানা ১১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে মিলেছে প্রথম জয়ের দেখা। দুই ম্যাচের ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানেই জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার মিরপুর টেস্টেও পাকিস্তানকে হারালেন শান্তরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।

পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)

ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

Manual8 Ad Code