আজ শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মিসের ঘটনা এখনো স্বপ্নে দেখেন রবার্তো বাজ্জো

editor
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মিসের ঘটনা এখনো স্বপ্নে দেখেন রবার্তো বাজ্জো

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল, ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই পেনাল্টি মিস, ইতালিয়ানদের কাছে যা এক চিরস্থায়ী দুঃস্বপ্ন। দীর্ঘ তিন দশক পর আবারও সেই ক্ষতের ওপর জমে থাকা ধুলো ঝাড়লেন বাজ্জো। তিনি জানালেন, এখনও মাঝে মাঝে স্বপ্নে সেই গোল মিস ভেসে ওঠে রবার্তো বাজ্জোর।

Manual7 Ad Code

সম্প্রতি ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘কোরেইরে দেল্লা সেরা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে মিস করা সেই পেনাল্টির কথা স্মরণ করে এমন মন্তব্য করেছেন রবার্তো বাজ্জো।

বাজ্জোর নতুন বই ‘লাইট ইন দ্য ডার্কনেস’ এর প্রকাশনা উপলক্ষে ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘কোরেইরে দেল্লা সেরা’কে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এই কিংবদন্তি। সেখানে উঠে এসেছে সেই অভিশপ্ত পেনাল্টি, চোটের সঙ্গে মরণপণ লড়াই আর তার আধ্যাত্মিক জীবনের গল্প।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বাজ্জো অবলীলায় স্বীকার করলেন, সেই মুহূর্তটি আজও তার ঘুমের মধ্যে হানা দেয়। বাজ্জো বলেন, ‘পুরো ইতালির মানুষের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে করেছিলাম। মনে হয়েছিল কোথাও অদৃশ্য হয়ে যাই। এটা ছিল ভীষণ লজ্জার, এমন এক ঘটনা যা সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে গেছে।’

Manual3 Ad Code

বছরের পর বছর পার হলেও সেই বলটা যেন এখনো কোথাও ঝুলে আছে। বাজ্জোর ভাষায়, ‘কখনো কখনো হুট করে ঘুম ভেঙে যায়, মনে হয় আমি গোল করেছি, তারপর আবার বাস্তবে ফিরে আসি।’ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে বাজ্জো হয়তো আজও সেই ক্রসবারটাকেই খুঁজে বেড়ান।

তবে বাজ্জোর ক্যারিয়ার শুধু এক পেনাল্টি মিসের গল্প নয়, এটি এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প। যে লড়াইটা ছিল নিজের শরীরের সঙ্গে। ১৯৮৫ সালে ফিওরেন্তিনায় যোগ দেওয়ার পরই ছিঁড়ে যায় তার ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট। পরিবারের পুরোনো ফোর্ড গাড়িতে চড়ে ১২ ঘণ্টার সেই যাত্রার কথা মনে করে বাজ্জো বলেন, ‘যাত্রাজুড়ে শুধু একটাই ভয় ছিল, আমি কি আর কখনো ফুটবল খেলতে পারব?’

অস্ত্রোপচারের পরের অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়াবহ। তখনকার চিকিৎসাব্যবস্থা আজকের মতো এত আধুনিক ছিল না। টিবিয়ায় ছিদ্র করে দেওয়া হয়েছিল ২০০টি সেলাই! অস্ত্রোপচারের পর যখন জ্ঞান ফিরল, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন এই কিংবদন্তি। বাজ্জো শোনালেন সেই হাহাকারের গল্প, ‘অ্যানেসথেশিয়ার ঘোর কাটতেই যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলাম। ব্যথানাশকও নিতে পারছিলাম না। আমি মাকে বলেছিলাম, তুমি যদি আমাকে ভালোবাসো, তবে আমাকে মেরে ফেলো।’

কিন্তু সেই যন্ত্রণাই তাকে মানুষ হিসেবে ইস্পাত-কঠিন করে তুলেছিল। এমনকি ইনজুরির কারণে খেলতে না পারায় ক্লাবের বেতনের চেক পর্যন্ত নিতে চাননি তিনি। আত্মমর্যাদাই ছিল তার কাছে বড় ব্যাপার।

Manual1 Ad Code

এই যে বারবার ভেঙে পড়েও আবার উঠে দাঁড়ানো, এর রসদ বাজ্জো পেয়েছেন তার আধ্যাত্মিক বিশ্বাস থেকে। বৌদ্ধধর্মের দর্শন তাকে নতুনভাবে চিনতে শিখিয়েছে। বাজ্জো বিশ্বাস করেন, মানুষের ভেতরেই লুকানো থাকে এক অসীম শক্তি। তিনি বলেন, ‘বৌদ্ধধর্মই ছিল আমার আশ্রয়। সবচেয়ে কঠিন সময়ে এটা আমাকে শক্তি দিয়েছে, আর কখনো হার না মানার সাহস জুগিয়েছে।’

Manual4 Ad Code