চিরবিদায় নিলেও মোশাররফ ভাই মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবেন: আনিস আলমগীর
চিরবিদায় নিলেও মোশাররফ ভাই মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবেন: আনিস আলমগীর
editor
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
“ইউনূসের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় মুক্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই অবনতি নিয়েই আজ সকাল সোয়া ১০টায় তিনি পরপারে চলে গেলেন।”
চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবরে তাকে স্মরণ করে ফেইসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
তিনি লিখেছেন, “চিরবিদায় নিলেও মোশাররফ ভাই মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটে থাকবেন।”
বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন; তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর বয়সী।
Manual8 Ad Code
সদ্যপ্রয়াত এই আওয়ামী লীগ নেতাকে স্মরণ করেন আনিস আলমগীর তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ইউনূসের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় মুক্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই অবনতি নিয়েই আজ সকাল সোয়া ১০টায় তিনি পরপারে চলে গেলেন।”
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ওই বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২০২৫ সালের ১৪ অগাস্টে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনিস আলমগীরকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত মার্চ মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
Manual4 Ad Code
Manual8 Ad Code
আনিস আলমগীর লিখেছেন, “মোশাররফ ভাই আমার বিয়েতে-বউভাতে উপস্থিত ছিলেন। আমার আব্বা-আম্মার জানাজাতেও তাকে পেয়েছিলাম। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সঙ্গী হওয়ার এই গুণটাই তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দিত। জনতার সঙ্গে মিশে যাওয়ার তার ছিল এক অদ্ভুত ক্ষমতা।
“রাজনীতি থেকে অনেকটা অবসরেই ছিলেন তিনি। ২৪-এর নির্বাচনে তার পরিবর্তে তার ছেলে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।”
১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হয়েছেন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
প্রবীণ এ রাজনীতিবিদের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে আনিস আলমগীর লিখেছেন, “আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মীরসরাইয়ের বারৈয়ার হাটে আমার ভাই মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার শোকসভায় যোগ দিতে তিনি আমাকে সফরসঙ্গী করেছিলেন। পথে আমরা নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতেও গিয়েছিলাম- তার মায়ের মৃত্যুতে শোক জানাতে।
Manual2 Ad Code
“ঢাকা থেকে গাড়িতে যেতে যেতে তার রাজনৈতিক জীবনের অনেক অজানা গল্প তিনি উন্মোচন করেছিলেন।”
মোশাররফ হোসেন লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।
আনিস আলমগীর লিখেছেন, “তিনি মুক্তিযুদ্ধে সাব-কমান্ডার ছিলেন, আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন।
“আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন- জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন তিনি যেন বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি দেননি, কিন্তু জিয়াকে শ্রদ্ধা করতেন, তাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। তার মুখে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক কথা শুনেছি, যা আমি খুব কমই শুনেছি অন্য কোনো আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে।”
সদ্যপ্রয়াত এ রাজনীতিবিদের আত্মার শান্তি কামনা করে সাংবাদিক আনিস আলমগীর লিখেছেন, “পরপারে ভালো থাকবেন মোশাররফ ভাই- আল্লাহ যেন আপনাকে বেহেশতবাসী করেন, এই দোয়া করি।”সুএঃ বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর