আজ মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৭৫

editor
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৭৫

Manual3 Ad Code
শরিফুল হক পপি, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শেফা (১১) নামের আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ২৮ জন রোগী ভতির্ হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ৭৫ জন।
প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। অবহেলা করলে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতায় মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অনেক অভিভাবক বলছেন,  সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত না হওয়ায় এবং সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলছেন, জেলাজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৃত শিশু শেফা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়া এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে। গত ১০ মে বিকেল ৪টার সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ৭৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২১৩ জনে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর এলাকাতেই আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।
Manual8 Ad Code

উপজেলা ভিত্তিক আক্রান্তের চিত্রে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ৮ জন, খোকসায় ১ জন ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।

Manual6 Ad Code

তথ্যমতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১,২১৩ জনের মধ্যে ১,০৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিশ্চিতভাবে হাম প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা ৩ জন হলেও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

Manual2 Ad Code

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফাতেমা খাতুন জানান, ভর্তিকৃত শিশুদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।