আজ রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের রায় না মানলে ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি হবে: জামায়াত আমির

editor
প্রকাশিত জুন ১৩, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় না মানলে ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি হবে: জামায়াত আমির

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থি। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে।’

Manual1 Ad Code

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

Manual5 Ad Code

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

Manual3 Ad Code

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারকে গণভোটের গণরায় মেনে নিতে হবে। সরকার যদি বর্তমান গণভোটের রায় বা জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নেয়, তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। ১৯৯৬ সালে নিজেরাই যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল এনে পাস করাতে বাধ্য হয়েছিল, এবারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তা করতে বাধ্য হবেন। ভালোয় ভালোয় মেনে নিন। জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। সময় খুব সীমিত। সময় ফুরিয়ে আসছে। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না হলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করবো না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ। আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।তথ্য সুএ:বাংলা ট্রিবিউন