আজ বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচারিক ক্ষমতা হারালেন সেই বিচারক, তাৎক্ষণিক বদলি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

editor
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বিচারিক ক্ষমতা হারালেন সেই বিচারক, তাৎক্ষণিক বদলি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual7 Ad Code

গোপালগঞ্জে আদালতের এজলাসে কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী আহতের ঘটনায় বিচারক মো. সুজন মিয়াকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। বিচারকের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

তাকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (সিভিল জজ) হিসেবে প্রেষণে বদলি করা হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপপরিচালক (প্রশাসন-১) এ. এফ. এম. গোলজার রহমান। এতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়াকে অবিলম্বে বর্তমান পদের দায়িত্বভার ত্যাগ করে আইন ও বিচার বিভাগে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারকআদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক এর আগে এই ঘটনায় বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) মনিরুল ইসলাম।

গতকাল বুধবার দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. সুজন মিয়ার এজলাসে কথা বলায় বিচারকের ছুড়ে মারা কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন।

Manual7 Ad Code

এদিকে, শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনায় ওই বিচারকের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনজীবীরা আদালত চত্বরসহ শহরের কয়েকটি সড়কে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনায় আজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিচারক মো. সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সেই বিচারকের ‘কগনিজেন্স পাওয়ার’ প্রত্যাহারসেই বিচারকের ‘কগনিজেন্স পাওয়ার’ প্রত্যাহার
আদালত সূত্র ও আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ বিচার কার্যক্রম চলছিল। ওই সময় আদালত কক্ষের পেছনের সারিতে বসা বিচারপ্রার্থীরা কথা বলছিলেন। একই সময়ে কয়েকজন আইনজীবীও কথা বলছিলেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আদালতের বিচারক সুজন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নিজের টেবিল থেকে কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। পেপারওয়েটটি সরাসরি সেখানে অবস্থানরত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় গিয়ে আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। ঘটনার পরপরই এ নিয়ে আদালত কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত আইনজীবীরা দ্রুত সাবিহা সুলতানাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন

Manual2 Ad Code

 

Manual3 Ad Code