আজ বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিলি বন্দরে টানা তৃতীয় দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, আজ বুধবার বৈঠক

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ণ
হিলি বন্দরে টানা তৃতীয় দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, আজ বুধবার বৈঠক

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে ভারত-বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। মঙ্গলবার (১ লা সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বুধবারও বন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিকরা। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিতে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। স্মারকলিপিতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে। বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (১ লা সেপ্টেম্বর) সকালে মুঠোফোনে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হলেও হিলি বন্দরে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিকাশ মন্ডল বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, বুধবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বালুরঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক বাধাগুলো তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি হিলি বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিও জানানো হবে।

‘আমরা আশা করছি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং হিলি বন্দরের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এরপর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে সমস্যার সমাধান না হলে ধর্মঘট অনির্দিষ্টকাল অব্যাহত থাকবে,’ বলেন বিকাশ মন্ডল।

বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক ব্যবসায়ী ভারতে পণ্য আমদানির জন্য এলসি করেছেন। আবার অনেক পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অংশে আটকে রয়েছে। সময়মতো এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত ভারতের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।’

Manual4 Ad Code

এদিকে বন্দরের শ্রমিক গোলাপ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে না। একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানিপণ্য নিয়ে ট্রাক ভারতে যাচ্ছে না। এতে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, ‘আমরা দিন আনি, দিন খাই। এভাবে কাজ বন্ধ থাকলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে পড়তে হবে।’

তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু রয়েছে। আগে আমদানি করা পণ্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

Manual4 Ad Code