বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় আওয়ামী লীগের ৭৩ আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগর ও ১০ জন মহিলা আইনজীবীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
Manual3 Ad Code
রবিবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।
তিনি বলেন, বয়স বিবেচনায় একজন পুরুষ আইনজীবী ও নারী বিবেচনায় ১০ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। অন্য ৭৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আওয়ামী লীগের এসব আইনজীবীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ওপর হামলা করেছিল। আদালতের আদেশে আমরা সন্তুষ্ট।
এদিন কারাগারে পাঠানোর আদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান মানিক, গাজী শাহ আলম, মাহবুবুর রহমান, আসাদুর রহমান রচি, সাইবার ট্রাইব্যুনালের পিপি নজরুল ইসলাম শামিম ও মোরশেদ হোসেন শাহীন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এস এম মাসুদ হোসেন দোলন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ৮১ জন আইনজীবী আজ (রবিবার) মহানগর আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে বারের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগর ও মহিলা আইনজীবী ১৮ জনকে জামিন দেয় আদালত। সাইদুর রহমান মানিক, শাহ আলমসহ অন্যান্য আইনজীবীদের জামিন দেওয়া হয়নি। এটা আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্টে আমরা যাবো। আশা করি, সেখানে ন্যায় বিচার পাবো।
Manual8 Ad Code
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চলাকালে ৪ আগস্ট আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা, চেম্বার ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আওয়ামী লীগপন্থি ১৪৪ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী বাবু। এ ঘটনায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন ১১৫ জন। ৭ এপ্রিল জামিনের মেয়াদ শেষ হবে।
Manual8 Ad Code
এ মামলার আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আবু, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল, মো. সাইদুর রহমান মানিক, মো. মিজানুর রহমান মামুন, আব্দুর রহমান হাওলাদার, গাজী মো. শাহ আলম, আব্দুল বাতেন, মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার গোলাম কিবরিয়া জুবায়ের, মোহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাৎ শাওন, মো. ফিরোজুর রহমান মন্টু, মো. আসাদুজ্জামান খান রচি ও সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট দুপুরে আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্মুখ থেকে বেআইনি জনতাবদ্ধে আবদ্ধ হয়ে অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
এসময় ভুক্তভোগী আইনজীবী মামলার শুনানি শেষে করে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আসেন। তখন আসামি আনোয়ার শাহাদাত শাওন হেলমেট পরে পিস্তল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র তাক করেন।