আজ শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগে চুক্তি, পরে ইরানের জব্দ সম্পদ নিয়ে আলোচনা: ট্রাম্প

editor
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ণ
আগে চুক্তি, পরে ইরানের জব্দ সম্পদ নিয়ে আলোচনা: ট্রাম্প

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কয়েকটি পশ্চিমা মিত্র দেশের নেতৃত্বে আরোপিত বহুমুখী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ অবস্থায় থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়ে এক অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই বিশাল জব্দ সম্পদ বা ফ্রিজড ফান্ড অবমুক্ত করার আগে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানকে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে এবং সেই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পরই কেবল এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

Manual4 Ad Code

রোববার (৭ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে সম্প্রচারিত এক বিশেষ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, ইরানের সাথে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বা আটকে থাকা আন্তর্জাতিক সম্পদ ছাড় দিতে রাজি আছেন কি না, তখন তিনি সরাসরি এক শব্দে জবাব দেন, ‘না।’ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই সাক্ষাৎকারটির বরাতে বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

Manual2 Ad Code

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরাশক্তি ইরানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পথরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘জব্দ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি মূলত অনেক পরে আসবে। ইরান যদি আগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভালো আচরণ করে এবং আমাদের শর্তানুযায়ী ভালো কাজ করে, তাহলেই কেবল আমরা তাদের এই অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়টি ভেবে দেখব।’

Manual4 Ad Code

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্যায়ভাবে জব্দ হয়ে থাকা শত বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়ে আসছে। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম আলজাজিরা গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক বিশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা) বা তারও চেয়ে অনেক বেশি।

ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও নীতিগত বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কাতারে ইরানের চালানো আকস্মিক ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উপসাগরীয় মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে এই বিপুল পরিমাণ জব্দ সম্পদের একটি বড় অংশ ব্যবহারের একটি বিশেষ আইনি রূপরেখা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসের মেগা প্ল্যান
নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ তহবিলের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ ও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের অত্যন্ত গোপন ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এই মুহূর্তে মার্কিন গোয়েন্দাদের সম্পূর্ণ জানা আছে এবং তিনি যেকোনো উপায়ে, তা সামরিক বা কৌশলগত যে পন্থাই হোক না কেন, তা মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। তবে এই গোপন পারমাণবিক সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে মার্কিন সেনা সরাসরি মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সামরিক কৌশলের স্বার্থে স্পষ্ট কিছু বলেননি।

ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে নস্যাৎ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে একটি চূড়ান্ত ও কঠোর চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হই, তাহলে আমরা বিশ্বের প্রধান প্রধান শক্তিগুলো সবাই মিলে সেখান থেকে ওই সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক নজরদারিতে ওয়াশিংটনে নিয়ে আসব এবং তা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেব।’ ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন পার হওয়ার এই সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Manual6 Ad Code