১৫ সদস্যের একটি নতুন অ্যাড-হক বার কাউন্সিল গঠন করেছে সরকার। নতুন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ক্ষমতাবলে এই কমিটি গঠন করা হল।
এ অ্যাডহক বার কাউন্সিল ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে কার্যকর থাকবে এবং ওই আদেশের অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করবে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, বদরুদ্দোজা বাদল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জসীম উদদীন সরকার, এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, রাগীব রউফ চৌধুরী, নাসির উদ্দিন অসীম, সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, মোহাম্মদ হোসেন লিপু এবং মোহাম্মদ শিশির মনির।
এছাড়া জেলা আইনজীবী সমিতিগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের আইনজীবী নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বগুড়ার আলী আসগর, ঢাকার সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের মাহফুজুর রহমান মিলন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
Manual7 Ad Code
এর আগে ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের আগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ‘একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ’ ছিল। ২০২২ সালের মে মাসের নির্বাচনে ১৪ পদের মধ্যে ১০টিতেই জয় পায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ’ এবং পদাধিকারবলে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
ওই বছর ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আমিন উদ্দিন পদত্যাগ করেন। ৮ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানকে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত করা হয়। এর ফলে তিনি পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের নতুন চেয়ারম্যান হন।
এরপর সেপ্টেম্বর মাসে আইনজীবী তালিকাভুক্তির এনরোলমেন্ট কমিটিতে যুক্ত হন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
পরবর্তীতে নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২৮ মে এক বছর মেয়াদের জন্য ১৪ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিল আইন মন্ত্রণালয়, যার চেয়ারম্যান ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান।
Manual8 Ad Code
তবে এই কমিটির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে এটি বাতিলের দাবি তোলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আইনজীবী সংগঠন ‘ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)’।
তাদের দাবি ছিল, বার কাউন্সিলের মূল আইনে এমন অ্যাডহক কমিটির কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
এই কমিটির ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ১৯ মে সাধারণ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল এক জরুরি সভায় দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট ও জেলা বারগুলোর আবেদনের মুখে সেই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এই নির্বাচন স্থগিতের ধারাবাহিকতাতেই সরকার নতুন করে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করল।
তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর