দুই ধর্মের রীতিতেই বিয়ে, দুবের স্ত্রী কে এই আঞ্জুম খান
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে টানা দুই শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছে ভারত। সর্বশেষ আসরে ভারতীয় দলের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিলেন শিবাম দুবে। মিডল অর্ডারে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একের পর এক চার-ছয় হাঁকিয়ে ভরসা জুগিয়েছেন দলকে। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালেও ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় পুঁজি এনে দিয়েছিলেন। ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারদের কাছ থেকে পেয়েছেন শিবম ‘শক্তিশালী’ বা ‘শক্তিমান’ দুবে তকমা।
Manual3 Ad Code
এরই মধ্যে এই অলরাউন্ডার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের মাধ্যমে দলে নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং আইপিএলে গুরুত্বপূর্ণ রাখছেন তিনি। যদিও দুবের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। আর্থিক সমস্যার কারণে ১৪ বছর বয়সে ক্রিকেটই ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। পাঁচ বছর পর, ১৯ বছর বয়সে আবার ক্রিকেটে ফেরেন তিনি।
Manual7 Ad Code
এই বিরতির কারণে ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ফিরে পেতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে ফিরে এসে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন জোরালোভাবে। রঞ্জি ট্রফিতে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়ে আলোচনায় আসেন, যা আইপিএল কর্তাদের দৃষ্টি কাড়ে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় ক্রিকেট দলে শিবামের অভিষেক হয় ২০১৯ সালের শেষের দিকে। কিন্তু দলে নিয়মিত ছিলেন না। ২০২৪ সালে দারুণ কামব্যাক করেন।
Manual7 Ad Code
দুবের এই দীর্ঘ যাত্রায়—পাঁচ বছরের বিরতি, অনিয়মিত শুরু, সমালোচনা—সবকিছুতেই একজন ছিলেন সবচেয়ে বড় সমর্থক। তিনি আর কেউ নন স্ত্রী আঞ্জুম খান। কয়েক বছর প্রেম করার পর ২০২১ সালে ভারতীয় এই ক্রিকেটারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শিবাম হিন্দু। আঞ্জুম ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ধর্মবিশ্বাসে পার্থক্য থাকলেও তাদের প্রেম সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশে আঞ্জুমের জন্ম। চারুকলা (ফাইন আর্টস) বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
পড়াশোনা শেষ করে অভিনয় এবং মডেলিং জগতে পা রাখেন আঞ্জুম। একাধিক হিন্দি সিরিয়াল এবং মিউজিক ভিডিওতেও অভিনয় করেছেন তিনি। বলিউডে একজন পেশাদার ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসাবেও কাজ করেছেন। সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসকিডার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হিসেবে আঞ্জুমের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। ক্রিকেটের সুবাদে শিবামকে খেলার মাঠে নিয়মিত দেখা গেলেও ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতেই পছন্দ করেন আঞ্জুম।
কীভাবে শুরু হয়েছিল দুজনের প্রেম? প্রতিবেদন অনুসারে, শিবাম এবং আঞ্জুমের দেখা হয়েছিল এক বন্ধুর মাধ্যমে। শিবামের থেকে আঞ্জুম প্রায় সাত বছরের বড়। অসমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও একে অপরকে মনে ধরে যায়। আলাদা করে দেখা করা শুরু করেন তারা। একে অপরের প্রেমে পড়েন।
কয়েক বছর প্রেম করার পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন যুগল। ২০২১ সালের ১৬ জুলাই হিন্দু এবং ইসলাম—উভয় রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। অন্য অনেক আন্তঃধর্মীয় বিয়ের মতো শিবাম এবং আঞ্জুমের বিয়েও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে পরস্পরকে সমর্থনের মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ককে দৃঢ় রেখেছেন দম্পতি।
২০২২ সালে শিবাম এবং আঞ্জুম তাদের প্রথম সন্তান আয়ানের জন্ম দেন। পুত্রের পর গত বছর কন্যাসন্তানেরও জন্ম দিয়েছেন আঞ্জুম। কন্যার নাম রেখেছেন মেহবিশ। তথ্য সুএঃ ঢাকা পোস্ট