আজ শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে চীন-রাশিয়ার ভেটো, ইরানের প্রতি সমর্থন

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে চীন-রাশিয়ার ভেটো, ইরানের প্রতি সমর্থন

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual3 Ad Code

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি সংশোধিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিলেও দুই স্থায়ী সদস্যের আপত্তির কারণে তা সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মস্কো ও বেইজিং পুনরায় স্পষ্ট করল যে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা তেহরানের পাশেই থাকছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি ভোট নিশ্চিত হলেও রাশিয়া ও চীনের বিশেষ ক্ষমতা বা ‘ভেটো’ প্রয়োগের ফলে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই ভোটাভুটিতে পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদান থেকে বিরত ছিল। মূলত ইরানকে অতিরিক্ত দোষারোপ করার অজুহাতে দেশ দুটি এই কঠোর অবস্থান নেয়।

Manual4 Ad Code

এর আগে রাশিয়া ও চীনের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রাথমিক খসড়ায় ‘অনুচ্ছেদ ৭’ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বৈধতা পেত সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তবে দুই পরাশক্তির আপত্তির মুখে সংশোধিত প্রস্তাবে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে রক্ষণাত্মক সমন্বয়ের কথা বলা হয়।

Manual6 Ad Code

কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হয়েছিল যে, প্রস্তাবের ভাষা নমনীয় করায় রাশিয়া ও চীন হয়তো ভোটদান থেকে বিরত থাকবে। এতে করে প্রস্তাবটি পাসের একটি পথ তৈরি হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেশ দুটির সরাসরি বিরোধিতায় সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার গভীর ফাটল ও বিভক্তি আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রকট হয়ে উঠল।

Manual5 Ad Code

এই ভেটো প্রদানের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শক্তিশালী মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল। একই সঙ্গে এর ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। এখন এই সংকটের সমাধান কোন পথে আসবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।