আজ মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব এবার ইরানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব এবার ইরানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি রিয়াদ পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

Manual7 Ad Code

আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার বিষয়েও সৌদি পক্ষকে অবহিত করা হয়।

Manual7 Ad Code

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফোনালাপে জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সদিচ্ছা নিয়ে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আলোচনায় মার্কিন পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য আবদার এবং অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে।

Manual7 Ad Code

তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিনীদের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থার অভাবই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গত ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইরান সফলভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।


সংঘাত নিরসনে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার সূত্র ধরে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। সেখানে ইরান সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি সম্বলিত ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে আসে।

বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার এই ফোনালাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Manual2 Ad Code

আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শান্তি চায় কিন্তু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে, সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই গভীর সংকট দূর করতে পারে কি না।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।