আজ সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?’, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন ইরানের

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ণ
আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?’, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন ইরানের

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual3 Ad Code

ঘোষিত যুদ্ধবিরতির চার দিন পর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত মার্কিন-ইরান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ছিল দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক তৎপরতা।

ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে টানা ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও ১১টি বিশ্বস্ত সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে, আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এমন কিছু বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সামনে আসতেই পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে।

Manual6 Ad Code

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব? গত জেনেভা বৈঠকে আপনারা বলেছিলেন কূটনীতি চলাকালে হামলা হবে না, অথচ তার দুই দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করেছিল।’ ইরানের এই আস্থার সংকট এবং পরমাণু কর্মসূচির মেয়াদ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানই মূলত চুক্তি হওয়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

Manual5 Ad Code

ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না, ফলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠানোর জন্য প্রতিনিধিদের বারবার কক্ষের বাইরে যেতে হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল এই ‘রেড লাইন’ বজায় রেখেছে।

অন্যদিকে ইরানের দাবি ছিল স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং হরমোজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। আলোচনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটে যে, কক্ষের বাইরে থেকেও উচ্চবাচ্য শোনা যাচ্ছিল। পরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে চা পানের বিরতি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একটি চূড়ান্ত এবং সেরা প্রস্তাব দিয়ে এসেছি, এখন দেখার বিষয় ইরান তা গ্রহণ করে কি না।’ এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং তারা যোগাযোগ করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানে পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

হরমোজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনকে যেমন চাপে রেখেছে, তেমনি দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক সংকট তেহরানকেও সমঝোতার টেবিলে থাকতে বাধ্য করছে। ফলে ইসলামাবাদ বৈঠক ব্যর্থ হলেও আগামী বৃহস্পতিবার নতুন কোনো স্থানে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সূত্র: এনডিটিভি

Manual6 Ad Code