পাকিস্তানের পর বিশেষ কী কারণে রাশিয়ায় ছুটছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী?
পাকিস্তানের পর বিশেষ কী কারণে রাশিয়ায় ছুটছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী?
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মস্কো সফরে যাচ্ছেন।পাকিস্তান ও ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ক্রেমলিনে এই সফর ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর অংশীদারিত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইরানের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও সামরিক মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
Manual1 Ad Code
ইরান ও রাশিয়ার এই সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদী একটি বিশেষ চুক্তিকে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ তাদের অর্থনৈতিক, সামরিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলাকে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে আসছে। যদিও তাদের এই চুক্তিতে কোনো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বা সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রতিশ্রুতি নেই, তবুও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরকে ব্যাপক সহযোগিতা করছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, গত মার্চ থেকেই রাশিয়া মার্কিন সৈন্য ও যুদ্ধজাহাজের অবস্থান সংক্রান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য ইরানকে সরবরাহ করে আসছে।
পারমাণবিক ইস্যুতেও মস্কো একটি বড় ভূমিকা পালন করতে চাইছে। ক্রেমলিন বারবার প্রস্তাব দিয়েছে যে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার মাটিতে জমা রাখতে বা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। এটি তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের একটি বড় শর্ত সমাধান করতে পারলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্লাদিমির পুতিনের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক শক্তিতে বিশ্বনেতা রাশিয়ার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাক-এমনটি চায় না ওয়াশিংটন।
আরাগচির মস্কো সফরের আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ল্যাভরভ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং মস্কো নিজেও এই প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
Manual1 Ad Code
আরাগচির এই সফরের মাধ্যমে তেহরান মূলত যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীর সঙ্গে পরামর্শ করতে এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে চাইছে। বর্তমান সংকটে ক্রেমলিনের সমর্থন ইরানের জন্য এক বিশাল নৈতিক ও কৌশলগত শক্তি হিসেবে কাজ করছে।