প্রতিবেশী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের’ আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
Manual5 Ad Code
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে চালানো এই আকস্মিক হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং সীমান্ত জুড়ে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই বিমান হামলা চালানো হয়। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলোতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএসআইএল-খোরসান (আইএসআইএস-কে) এর ঘাঁটি ছিল।
আফগানদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় এই ঘাঁটিগুলো থেকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হামলায় আইএসআইএস-কে-এর শীর্ষ নেতাদের একটি আস্তানাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে একে ‘মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, দায়েশ (আইএসআইএল) সহ প্রায় দুই ডজনেরও বেশি সন্ত্রাসী সংগঠন আসলে আফগান তালেবান সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানের মাটিতেই অবস্থান করছে এবং সেখান থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আফগানিস্তান ঠিক কী ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে, তা কাবুল স্পষ্ট করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের কাছে বড় কোনো যুদ্ধবিমান না থাকলেও অন্তত ছয়টি হালকা বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু সামরিক ড্রোন রয়েছে, যা এর আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কাবুল তাদের দেশের ভেতরে হামলা চালানো নিষিদ্ধ টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তা কার্যত ভেস্তে যায়।
Manual5 Ad Code
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। মাত্র গত সপ্তাহেও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় ১১টি শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছিল, যার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তারা আর কোনো হুমকি বরদাশত করবে না এবং যেকোনো হুমকির উৎস নির্মূল করতে সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বন করবে।