কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মিছিল ঠেকাতে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। সমর্থকদের ঠেকাতে কার্যত লকডাউন করে ফেলা হয়েছে রাজধানী। বিভিন্ন সড়কে শিপিং কনটেইনার বসিয়ে প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
Manual3 Ad Code
পিটিআই জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, রাজধানীর সড়ক দখল করে দীর্ঘ সময় জনজীবন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। ইসলামাবাদ হাইকোর্টও রাজনৈতিক দলগুলোর রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক বা সরকারি স্থাপনা দখল করে রাখার অধিকার নেই বলে রায় দিয়েছে। এ নিয়ে সরকার ও ইমরান খানের দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
আটক ইমরানের তিন বোন
মিছিলের আগে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজি—আটক হয়েছেন। ডন ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।
তবে এসব আটকের বিষয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। অন্যদিকে পিটিআই ও মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
Manual7 Ad Code
হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন
Manual7 Ad Code
আল জাজিরার প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের মিছিলে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে বলে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্কুল ও কলেজের কিছু ভবনও নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জন্য ব্যবহারের কথা জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পিটিআই নেতারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আবারও বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। তার দল ও পরিবার তার কারাবাস, চিকিৎসা এবং কারাগারে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছে; পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে রাজধানীর সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বড় আকারের সমাবেশ হলে পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে।
আইএমএফের সফরও আলোচনায়
Manual1 Ad Code
এদিকে পাকিস্তানের ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির পর্যালোচনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল দেশটিতে রয়েছে। প্রতিনিধিদলটি করাচিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির পরদিন তাদের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতে পারে।
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এখন পিটিআইয়ের ঘোষিত কর্মসূচি কতটা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয় এবং রাজধানীর পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।