স্বাধীন সুপ্রীমকোর্ট সচিবালয় গঠন স্বায়ত্তশাসিত বিচার বিভাগের ভিত্তি স্থাপন করেছে : প্রধান বিচারপতি
স্বাধীন সুপ্রীমকোর্ট সচিবালয় গঠন স্বায়ত্তশাসিত বিচার বিভাগের ভিত্তি স্থাপন করেছে : প্রধান বিচারপতি
editor
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) : প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, স্বাধীনভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালায় গঠন করার ফলে একটি শক্তিশালী ও স্বায়ত্বশাসিত বিচার বিভাগের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।
Manual1 Ad Code
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট দিবস, ২০২৫’ উপলক্ষে সুপ্রীম কোর্ট অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
Manual2 Ad Code
তিনি বলেন, ‘বিচারিক অফিসের ওপর দীর্ঘস্থায়ী দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে একটি স্বাধীন সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে এবং এর ফলে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত বিচার বিভাগের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।’
Manual5 Ad Code
প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘এই ধরনের উন্নয়ন উদার সাংবিধানিকতার আকারে ন্যায়বিচারের সাধনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি স্বাধীন এবং জবাবদিহিমূলক বিচার বিভাগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং সহানুভূতির মধ্য দিয়ে বিচার ব্যবস্থার উপর জনসাধারণের আস্থা পুনরায় জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বিকশিত সামাজিক প্রত্যাশা এবং জটিল আইনি চ্যালেঞ্জসমূহের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমাদের সাংবিধানিক নীতিসমূহ দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে উদ্ভাবন এবং ক্রমাগত উন্নতি করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
বিচার বিভাগের শীর্ষে নিযুক্ত বিচারকদের সমাজের মধ্যে মর্যাদা, কর্মনীতি এবং সততার উচ্চ মান বজায় রাখতে নিজ নিজ কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগকে কেবল আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে কেননা এই ধরনের পদক্ষেপ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংরক্ষণ করবে এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলবে। জুলাই বিপ্লবের পর সুপ্রীম কোর্টের তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া বিচার বিভাগের সংস্কার প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচারকদের নিয়োগ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাপক আইন প্রণয়ন এবং বিচ্যুতির ক্ষেত্রে বিচারকদের জবাবদিহি করার জন্য সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অত্যাচার, নিপীড়ন ও অবিচারের নীচতা থেকে রক্ষা করে ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের জনগণের স্থায়ী এবং অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করে তুলেছিল। কয়েক দশক পরে আমরা আবারও এই প্রতিষ্ঠানের (সুপ্রীম কোর্ট) বিবর্তনের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। জুলাই বিপ্লবের পরে যখন আমাদের জনগণ কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, তখন থেকে সুপ্রীম কোর্ট পুনরায় জনসাধারণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।’
অনিশ্চয়তার সময়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এবং এটি মনে করিয়ে দেয় যে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সত্ত্বেও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দৃঢ়তা নিশ্চিত করতে হবে। অতএব, আজকের এই দিনটি কেবল সুপ্রীম কোর্টের প্রতিষ্ঠার উদযাপন করে শুধু তাই নয়, বরং এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখে এমন সকল মূল্যবোধের স্বীকৃতি দেয়, এর অখণ্ডতা ও স্বাধীনতাকে প্রতিফলিত করে এবং ন্যায়বিচারের অদম্য সাধনাকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।’
একটি স্বাধীন, দক্ষ এবং কার্যকর বিচার বিভাগ হিসেবে এর শক্তিশালী কার্যকারিতা বজায় রাখা অবশ্যই একটি পরম অপরিহার্য বিষয় জানিয়ে তিনি উপস্থিত সকল বিচারক ও আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টর মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব হয়।
আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম।
Manual3 Ad Code
এসময়, সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন এটর্নী জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি ফারাহ মাহবুবসহ আরো অনেকে।বাসস