আজ রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলন: নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন ‘চ্যালেঞ্জ’ শেখ হাসিনার আইনজীবীর

editor
প্রকাশিত মে ২৯, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলন: নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন ‘চ্যালেঞ্জ’ শেখ হাসিনার আইনজীবীর

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

  • জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদনে ‘পরিসংখ্যানগত ভুল’ রয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে আইনজীবীর মাধ্যমে ‘চ্যালেঞ্জ’ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার (২৯ মে)  লিখেছে, শেখ হাসিনাকে আইনি পরামর্শদাতা লন্ডনের ‘ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স’-এর স্টিভেন পাওলস কেসি বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার টুর্ককে একটি চিঠি দিয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ‘পরিসংখ্যানগত ভুল’ রয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে প্রত্যাহারেরও দাবি তোলা হয়েছে সে চিঠিতে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ৮৩৬ জন। পরে আরও কয়েকজনের নাম সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

তবে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ‘হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনস অ্যান্ড অ্যাবিউজেস রিলেটেড টু দ্য প্রটেস্টস অব জুলাই অ্যান্ড অগাস্ট ২০২৪ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদনে, সহিংসতায় ১৪০০ জনের মতো নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে প্রবল ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে আছেন।

এর মধ্যেই জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরো মামলা রয়েছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠাতে এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকার কয়েক দফায় ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে। তবে ভারত এ বিষয়ে এখনো সাড়া দেয়নি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, তাদের হাতে আসা ওই চিঠিতে পাওলস কেসি লিখেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব ‘অফিশিয়াল রেকর্ডের’ ওপর ভিত্তি করে এটি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের’ ১৪০০ জন আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। মূলত শেখ হাসিনার সরকারকে সহিংসভাবে উৎখাতের বিষয়টিকে বৈধতা দিতে অন্তর্বর্তী সরকারই মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়েছিল।”

Manual5 Ad Code

গণঅভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, তারা জুলাইদের তালিকা করে গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সঙ্গে শহীদদের এ সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে।

এর আগে ওএইচসিএইচআর তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, জুলাই আন্দোলনের সময় মাত্র ৪৬ দিনে প্রায় ১৪০০ জনের মতো নিহত হয়, যাদের সিংহভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান।

একইসঙ্গে তৎকালীন সরকার, তার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত সহিংস উপাদানগুলো ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে’ মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণও খুঁজে পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এনডিটিভি লিখেছে, ওইএইচসিএইচআরের প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হয় এবং তা শেখ হাসিনার ওপর লাগাতার ‘আন্তর্জাতিক চাপ’ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

পাওলস কেসির চিঠিতে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত ‘অফিশিয়াল গেজেট’-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে; যা জাতিসংঘের দেওয়া সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। এমনকি এই সংখ্যাটিও ‘বাড়িয়ে’ বলা হয়ে থাকতে পারে।

Manual6 Ad Code

জুলাই আন্দোলন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের রিপোর্ট

এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসাবের কথা বলা হয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন।

চিঠিতে দাবি করা হয়, জুলাই আন্দোলনে হতাহতের সংখ্যা যদি কোনো ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ’ উৎসের মাধ্যমে তদন্ত করা হতো, তাহলে প্রকৃত সংখ্যাটি সম্ভবত আরও কম হত।

পাওলস কেসি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, “নিহতের এই ‘বাড়িয়ে বলা’ সংখ্যাটিকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, “সহিংসতার ধরন ও পরিধিকে বাড়িয়ে দেখাতে এবং শেখ হাসিনা যেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে চিত্রিত হন, সে জন্য এই অনেক বড় সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়েছিল। যা মূলত শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল।”

চিঠিতে ওএইচসিএইচআরের তদন্তের ‘স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে ওএইচসিএইচআর এই তদন্ত চালায়। তবে লন্ডনের এই আইনজীবী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিক এনজিও কর্তৃক নথিবদ্ধ ‘ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত’ বলে বর্ণনা করেন।

পাওলস দাবি করেন, মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই স্বীকার করেছেন যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনটি ছিল ‘সুপরিকল্পিত এবং সুশৃঙ্খল অভিযান’।

Manual8 Ad Code

চিঠিতে ওএইচসিএইচআরের কাছে অনুরোধ করা হয়, যাতে ১৪০০ জন আন্দোলনকারী নিহত হওয়ার ‘ভুল’ সংখ্যাটির বিষয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে প্রত্যাহার এবং সংশোধনী জারি করা হয়।

জাতিসংঘ যেন কোনো ‘মিথ্যা বয়ান বা প্রচারণাকে’ স্থায়ী করার হাতিয়ারে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজন, বলেন শেখ হাসিনার আইনজীবী।

এ বিষয়ে ওএইচসিএইচআর এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

তথ্য সুএঃ এনডিটিভি