আজ মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন আদৌ হবে তো, নাকি আবারও সাজানো নির্বাচন?- জিল্লুর রহমান

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচন আদৌ হবে তো, নাকি আবারও সাজানো নির্বাচন?- জিল্লুর রহমান

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual5 Ad Code

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ২২ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২১ তারিখের মধ্যেই প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ততই বাড়ছে সংশয়—নির্বাচন আদৌ শেষ পর্যন্ত হবে তো? হলে কিসের বিনিময়ে হবে? কত রক্তের বিনিময়ে, কত জীবনের বিনিময়ে? আর নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কেমন হবে, এটি কি ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো বিতর্কিত ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে।

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, রাজনীতির মাঠে একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের মিত্রদের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনী সমীকরণকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। তাদের বিপুল ভোটব্যাংক শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবে, কাকে ভোট দেবেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কারো মতে, ভোটাররা নিরুৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্রেই যাবেন না; আবার অনেকে মনে করেন, এই ভোট একটি ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির দিকে প্রবাহিত হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণমাধ্যমে জোট-মিত্র নিয়ে যত আলোচনা হয়, সাধারণ মানুষের কাছে দল ও প্রতীকই শেষ কথা।

Manual1 Ad Code

ফলে বিএনপি মানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ মানে আওয়ামী লীগ—এই বাস্তবতার বাইরে অন্যদের জোট-মিত্র নিয়ে হিসাব খুব বেশি কার্যকর হয় না। কিন্তু সেই জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে জামায়াতে ইসলামী কী করবে—এটাই।
তিনি আরো বলেন, একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কখনোই স্থিতিশীল ছিল না বরং অভ্যুত্থানের পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যাদের অনেকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে এসব সহিংসতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—এটা নিয়েও জনমনে উৎকণ্ঠা রয়েছে। ক্ষমতা পরিবর্তন কিংবা নির্বাচনকালীন উত্তেজনা তৈরি হলে দুর্বৃত্ত ও রাজনৈতিক ক্যাডাররা আরো সক্রিয় হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা, মাঠপর্যায়ের প্রভাব এবং রাজনৈতিক সমীকরণে উপস্থিতি বেড়েছে।

Manual5 Ad Code

জিল্লুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী খুবই স্মার্ট প্লেয়ার এবং তারা পরিস্থিতিকে নানাভাবে ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা দেখেছি—ছাত্রশিবির কিভাবে ছাত্রলীগের ভেতরে ঢুকে একটার পর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়ী হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাদের কোনো লজ্জাবোধও নেই—তারা প্রকাশ্যেই বলছে, আমরা ছাত্রলীগ করেছি, এখন শিবির।’

তিনি আরো বলেন, বাস্তবে এনসিপির ভোট-সমর্থন কতটা, তা পরিষ্কার নয়—তবে রাজনৈতিক পরিসরে ও সরকারিভাবে তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে। এনসিপির একাধিক নেতার বক্তব্যে এমন ধারণাও দেওয়া হয়েছে যে তারা বিপুলসংখ্যক আসনে জয় পেতে পারেন। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হলেও সেটি সরকারের অধীনে ‘ইঞ্জিনিয়ার্ড’ বা সাজানো নির্বাচন হতে পারে, যেখানে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা সুবিধা পেতে পারে। তবে কেউ কেউ খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন যখন ইসলামী আন্দোলন এই ধারার বাইরে অবস্থান নিয়েছে। তারপরও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

তিনি আরো বলেন, সরকারের আচরণ ও অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে স্পষ্টভাবে কোনো বার্তা না দিলেও গণভোট নিয়ে তাদের তৎপরতা বেশি দৃশ্যমান। উপদেষ্টারা বিভিন্ন জেলায় গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এনজিওগুলোকে ডেকে ক্যাম্পেইন নিয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন, প্রশাসনও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে—এতে অনেকের ধারণা, সরকার আসলে কোন পথে যেতে চায় তা ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হবে, কীভাবে হবে, কিংবা আদৌ হবে কিনা—এসব প্রশ্ন সামনে আসছে আরো জোরালোভাবে।