চা–বাগানঘেরা পর্যটন শহর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এখানেই। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
গত কয়েক দিনের তুলনায় হঠাৎ করেই তাপমাত্রার এই পতনে কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোর থেকে সকাল গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না, চারদিকে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনেও তাপমাত্রা নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
শীতের তীব্রতা বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতেও স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে। বছরের এই সময়টিতে সাধারণত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকের আগমন লক্ষ্য করা গেলেও, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে অনেক ভ্রমণকারীর স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যসহ পরিবার নিয়ে আসা অতিথিরা এই শীতের কারণে কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রিসোর্ট ও হোটেল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পর্যটকই বাইরে ঘোরাঘুরি সীমিত করে দিয়েছেন। ফলে চা–বাগান, পাহাড়ি টিলা কিংবা হাওর এলাকায় ভোরবেলার ভ্রমণসূচি বাতিল করতে হচ্ছে অনেকের। কেউ কেউ আবার শীতের তীব্রতা বিবেচনায় আগেভাগেই অবস্থান সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কয়েকজন পর্যটক জানান, শীতের এই প্রকোপ উপভোগ করতেই তারা শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে এসেছেন। তাঁদের মতে, কুয়াশা আর শীতল আবহাওয়া শ্রীমঙ্গলের প্রকৃত সৌন্দর্যকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
এদিকে টানা শীত ও হিমেল হাওয়ায় চা–বাগান অধ্যুষিত এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের কষ্টও বাড়ছে। সকাল-সন্ধ্যায় কাজে বের হতে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার দৃশ্য চোখে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, জানুয়ারির শুরুতে এমন তীব্র শীত অস্বাভাবিক নয়, তবে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাওয়ায় জনজীবনে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শীত উপযোগী প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।