নির্বাচনী রাজনীতিতে হেফাজতকে ঘিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন তৎপরতা
নির্বাচনী রাজনীতিতে হেফাজতকে ঘিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন তৎপরতা
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Oplus_16908288
Manual1 Ad Code
সদরুল আইনঃ
Manual7 Ad Code
অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে হেফাজতে ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বেড়েছে।
কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনকে কাছে টানতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামপন্থী দল ইতিমধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার পথে এগোচ্ছে।
এসব দলের মধ্যে অন্তত চারটি সরাসরি হেফাজত-সংশ্লিষ্ট। অভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছে তারা। এ প্রেক্ষাপটে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব বিএনপির কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
Manual3 Ad Code
ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে আগস্টের শুরুতে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ ও নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
Manual6 Ad Code
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতা করে আসছেন। মওদুদীর মতাদর্শের বিরোধিতা করে তিনি একাধিকবার বলেছেন, ‘জামায়াত সহিহ ইসলামী দল নয়, তারা মদিনার ইসলাম নয় বরং মওদুদীর ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’
Manual5 Ad Code
সাম্প্রতিক জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনেও তিনি ইসলামি দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, আগামী নির্বাচনে এমন কোনো দলের সঙ্গে জোট করা যাবে না, যাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস সম্পর্কে পূর্বসূরি আলেমরা সতর্ক করে গেছেন।
এই অবস্থান বিএনপির জন্য সহায়ক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে একযোগে আন্দোলনে থাকা পাঁচটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলের মধ্যে চারটির সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক রয়েছে।
তবে বাবুনগরীর এসব বক্তব্য নিয়ে হেফাজতের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। কেউ কেউ মনে করেন, একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে কোনো রাজনৈতিক দলকে সরাসরি আক্রমণ করা বা নির্বাচনী জোট নিয়ে মন্তব্য করা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
তবে সংগঠনের আমির দেশের প্রবীণ আলেম হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ আপত্তি তুলছেন না।
অন্যদিকে জামায়াতের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘হেফাজতের আমিরকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু ইসলামি শক্তির ঐক্যের বিষয়ে এমন বক্তব্য কোনো খাঁটি মোমিনের কাছ থেকে কাম্য নয়।’
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানও মন্তব্য করেন, হেফাজত নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও এখন মনে হচ্ছে তারা পক্ষ নিচ্ছে, যা ইসলামি ঐক্যের জন্য শুভ হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের ‘ভোট ব্যাংক’কে কেন্দ্র করে বিএনপি তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। তবে এ নিয়ে হেফাজতের ভেতরে বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হলে সংগঠনটির অবস্থান আরও জটিল হতে পারে।