ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের পৃথক দুটি ঘটনায় দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন আয়কর আইনজীবী তার একটি চোখ হারিয়েছেন, আরেকজনের মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। পরপর এসব ঘটনায় রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্জন ও জনমানবহীন এলাকায় এ ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় দুর্বৃত্তরা ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় ট্রেনের ভেতরে থাকা আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে সজোরে আঘাত লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারের পরও চিকিৎসকরা তার চোখটি রক্ষা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত চোখ অপসারণ করতে হয়েছে।
একই রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটার পৈরতলা এলাকায় প্রবেশের সময় আরেকটি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন ঢাকার স্বপ্ন কুটির বিল্ডার্সের নির্বাহী হিসাবরক্ষক নাইমুল হাসান।
নাইমুল হাসান জানান, ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করছিল এবং তিনি নামার প্রস্তুতি নিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ একটি পাথর এসে তার মাথায় আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সহযাত্রীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়।
এদিকে ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রেলওয়ে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম আলাপকালে রেড টাইমস নিউজ -২৪ নিউজ কে জানান, ঘটনার বিষয়ে ছায়া তদন্ত চলছে। পুলিশ ইতোমধ্যে টিম গঠন করে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি, নেশাখোর বা মাদকসেবীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। কোনো সুস্থ ও বিবেকবান মানুষ এমন নৃশংস কাজ করতে পারে না। ঘটনাটি গভীর রাতে, রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে নির্জন ও জনমানবহীন এলাকায় ঘটেছে। একজন কম আহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আহতদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন রেলপথে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কার্যকর নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ এখনও পর্যাপ্ত নয়।
রেলযাত্রীদের দাবি, নির্জন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ টহল জোরদার এবং দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে।