তেলের অপেক্ষায় দুর্ভোগ; ‘জেলখানার কয়েদির চাইতে খারাপ অবস্থায় আছি’
তেলের অপেক্ষায় দুর্ভোগ; ‘জেলখানার কয়েদির চাইতে খারাপ অবস্থায় আছি’
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual8 Ad Code
‘সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়াইছি। ৯ ঘণ্টায় তেল পাই নাই। গাড়ি রাইখা কোথাও যাইতেও পারতেছি না। মালিক ভরসা কইরা আমার কাছে ৩০ লাখ টাকার গাড়ি দিছে, রাইখা খাইতে বা প্রস্রাব করতে গেলে গাড়ির যদি কোনো ক্ষতি হয়! আমার পক্ষে তো ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না। আবার সারাদিন না খাইয়া থাকাও যায় না। আমাদের কথা কেউ চিন্তা করে না। মনে হয়, জেলখানার কয়েদির চাইতে খারাপ অবস্থায় আছি।’
Manual2 Ad Code
এভাবেই নিজের দুর্দশার কথা বলছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার এক ব্যক্তির গাড়িচালক রানা ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সিটি ফিলিং স্টেশনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোয় দীর্ঘ লাইন দেখে এখানে চলে এসেছেন। এখানে সকালে লাইন ছোটই ছিল। কিন্তু তেলের অপেক্ষায় যে পুরো দিনই কাটবে বুঝতে পারেননি।
সিটি ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি তেলবাহী লরি না আসায় তারা তেল দিতে পারছেন না। ঠিক কখন লরি আসবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অথচ তেল পাওয়ার আশায় লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সাতরাস্তা মোড়ের অদূরের ফিলিং স্টেশন থেকে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের লাইন কারওয়ান বাজার রেলগেট হয়ে ফার্মগেটে গিয়ে ঠেকেছে। লাইনের পেছনের দিকে থাকা অনেকে জানেনও না, ফিলিং স্টেশনে তেল নেই।
Manual3 Ad Code
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিগত গাড়ির চালক তানভীর হোসেন জানান, সবার আগে তেল পাওয়ার আশায় তিনি সকাল ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। যদিও সকাল ৯টা বা ১০টার আগে সাধারণত তেল দেওয়া শুরু হয় না। তবু তেল পাওয়া নিশ্চিত করতেই তিনি সকালে এসেছেন। কারণ, পরে এলে অনেক সময় ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে তেল শেষ হয়ে যায়। তখন পুরো সময়টা বৃথা যায়।
একই রকম কথা জানালেন উত্তরা থেকে আসা গাড়িচালক মো. শাহীন। তিনি জানান, লাইনে ১০০ গাড়ির পেছনে পড়লে আর তেল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এ জন্য তিনি সকাল ৮টায় এসেছেন। তখন ৮-৯টি গাড়ি লাইনে ছিল। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেলের লরি না আসায় তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের লাইনে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থা আরও করুণ। কারণ, প্রাইভেটকার চালকরা তাও গাড়ির ভেতরে বসে থাকতে পারছেন। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের সেই সুযোগ নেই। খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তাদের অনেকেই আবার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে তেল পাওয়ার আশায় এসেছিলেন।
তেলের অপেক্ষায় লাইনেই কেটে যায় দীর্ঘ সময়
পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মো. মিথুন। তিনি জানালেন, তেল নিতে দীর্ঘ সময় লাগে বলে গতকাল ছুটি নিয়েছেন। বনশ্রী থেকে এসে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে লাইনে দাঁড়ান তিনি। সারাদিন লাইনে থেকে খাওয়ার সুযোগও পাননি। কারণ মোটরসাইকেল রেখে খেতে যাওয়া নিরাপদ মনে হয়নি। আর মোটরসাইকেল নিয়ে গেলে ফিরে এসে লাইনে অনেক পেছনে পড়ে যাবেন।
বাড্ডার নতুন বাজার থেকে আসা শাহ আলমেরও একই অবস্থা। তিনি একটি দূতাবাসে চাকরি করেন। মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য ছুটি নিয়ে এসেছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করেও তেল পাননি।
সকালে একই সময়ে ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়ান মো. সেজান। তিনি তেজগাঁও এলাকারই বাসিন্দা। বুধবার রাতেও এখানে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু রাত ৯টার দিকে ফিলিং স্টেশনের তেল শেষ হয়ে যায়। এ কারণে গতকাল সকালে আবারও মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। কিন্তু সারাদিনে তেলের লরি এসে পৌঁছায়নি।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের হিসাব শাখার কর্মী মাহবুব ও শাহীন একসঙ্গেই লাইনে ছিলেন। তারা জানালেন, সকাল ৯টায় এসে লাইনে দাঁড়ান। তেল পেতে দেরি হচ্ছে বলে ফাঁকে পালা করে অফিসের কিছু কাজ সেরে এসেছেন। তাদের কর্মস্থল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশেই হওয়ায় বিশেষ সমস্যা হয়নি। বিকেলে অফিস শেষ হলেও তেলের জন্য অপেক্ষা ফুরায়নি। তথ্য সুএঃ সমকাল