নিরাপত্তা পর্যালোচনায়’ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত সফরে অমিত শাহ
নিরাপত্তা পর্যালোচনায়’ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত সফরে অমিত শাহ
editor
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে এবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত সফরে বের হচ্ছেন ভারতের বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী এক মাস ধরে তিনি দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন ফরওয়ার্ড বা অগ্রবর্তী এলাকা চষে বেড়াবেন। ভারতের দাবি, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ‘মেগা নিরাপত্তা পর্যালোচনা’ এবং ভারতের সীমান্তগুলোতে আধুনিক ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের সূচনা করা। তবে বিশ্লেষকরা একে প্রতিবেশীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এই দীর্ঘ সফরের প্রথম দফায় অমিত শাহ পা রাখছেন রাজস্থানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বিকানেরে। সোমবার গভীর রাতে সেখানে পৌঁছে বিএসএফ কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে ভারত-পাক সীমান্তের প্রত্যন্ত ‘সাঞ্চু’ পোস্টে বিএসএফ জোয়ানদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন এবং নারী সীমান্তরক্ষীদের জন্য নির্মিত একটি ব্যারাকের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করবেন।
একই দিন বিকেলে রাজস্থান রাজ্য সরকার এবং সীমান্ত সংলগ্ন পাঁচ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) নিয়ে একটি উচ্চ-স্তরের যৌথ নিরাপত্তা বৈঠকের সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে তাঁর। অভিযোগ রয়েছে, এই বৈঠকের আড়ালে মূলত সীমান্তবর্তী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি ও ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের নামে কাঁটাতারের ফাঁদ আরও জোরদার করার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।
এরপর আগামী ২৯ মে ভারতের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাবেন গুজরাটের ভুজ অঞ্চলে। সেখানে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বিতর্কিত এবং অত্যন্ত দুর্গম জলাভূমি ‘হারামি নালা’ পরিদর্শন করবেন তিনি। অতীতের বিভিন্ন অনুপ্রবেশের অজুহাত দেখিয়ে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ঢেলে সাজানোর কথা বলছে নয়াদিল্লি।
পাকিস্তান ফ্রন্ট শেষ করেই অমিত শাহের মূল নজর ঘুরছে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। আগামী ৫ জুন তিনি পা রাখবেন ত্রিপুরায়। সেখানে বাংলাদেশ সংলগ্ন ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কথিত অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন।
তবে এই সফরের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ঘটতে যাচ্ছে জুনের মাঝামাঝি সময়ে, যখন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি সেখানে বিতর্কিতভাবে জয়লাভ করেছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বাংলাদেশ বিরোধী কার্ড খেলতে শুরু করেছে।
Manual7 Ad Code
রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই কথিত ঐতিহাসিক বিজয়ের পরপরই অমিত শাহের এই সীমান্ত সফর অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। নির্বাচনের সময় বিজেপি নেতৃত্ব, বিশেষ করে অমিত শাহ নিজে বারবার অভিযোগ করেছিলেন যে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার বাংলাদেশ থেকে ‘অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার সেই রাজনৈতিক এজেন্ডাকে রাষ্ট্রীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে পশু পাচার, মানব পাচার এবং অনুপ্রবেশ রোধের নামে কড়াকড়ি বাড়ানোর নির্দেশ দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
Manual5 Ad Code
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির উগ্র প্রচারণার কাণ্ডারি শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তাঁর দলের নির্বাচনী মূল প্রতিশ্রুতি “শনাক্তকরণ, বাদ দেওয়া এবং নির্বাসন” নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি প্রতিটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের (যাদেরকে বিজেপি অবৈধ বাংলাদেশি বলে দাবি করে) আটকে রাখার জন্য দ্রুত বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অমিত শাহের এই কথিত নিরাপত্তা পর্যালোচনার আড়ালে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর আগ্রাসী মনোভাব আরও বাড়তে পারে, যা দুই দেশের সীমান্ত কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।