গত ১১ জুন পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। তবে আর্জেন্টিনা এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায়।
Manual3 Ad Code
আগামী বুধবার (১৭ জুন) সকালে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দল আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে। গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। এই ম্যাচের মাধ্যমে রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন বিশ্বকাপজয়ী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবার তার সামনে রয়েছে বিভিন্ন মাইলফলক ছোয়ার হিসাব-নিকাশ।
Manual8 Ad Code
মাঠে নামার আগে বিশ্বকাপে নিজের ছয় আসরের ছবি ভক্তদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাগাভাগি করেছেন মেসি। নিজের বিশ্বকাপ যাত্রার স্মৃতিচারণ করে ক্যাপশনে লিখেছেন শুধু- ‘২০০৬⚽২০২৬’। যেন বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শুরু-শেষটা একই ফ্রেমে আনার চেষ্টা করলেন তিনি।
রোজারিও’র এই তারকা ২০ বছর আগে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেন। এরপর অংশ নেন দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ (দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে), ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে– যেখানে তিনি আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। প্রথমবার এই কীর্তি গড়বেন তিনজন। সবাই আবার চলতি আসরে, মেসি ছাড়া বাকি দুজন- মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়া, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
Manual8 Ad Code
সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ: মেসির সামনে সুযোগ রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। রেকর্ডটি এখনও জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে, তার গোল সংখ্যা ১৬। এরপর আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং আরেক জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার (১৪ গোল)। মেসি বর্তমানে ১৩ গোল নিয়ে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে।
তবে একই রেকর্ড ভাঙার পথে আছেন আরও একজন, যিনি গত দুই বিশ্বকাপেই মেসির সঙ্গে দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে মাত্র ২৭ বছর এবং তৃতীয় আসরে নামতে যাওয়ার আগে টুর্নামেন্টটিতে তার গোলও সমান ১৩টি।
সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড: মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতাও হতে পারেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোলে সহায়তা করেছেন। ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে। তাকে ছুঁতে দুই এবং শীর্ষে উঠতে মেসিকে তিনটি অ্যাসিস্ট করতে হবে।
আরেকটি ফাইনাল খেললে নতুন উচ্চতায় মেসি: মেসি এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন– ব্রাজিল ২০১৪ ও কাতার ২০২২। আরও একটি ফাইনালে উঠতে পারলে তিনি সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা খেলোয়াড়দের বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নেবেন। এমবাপেরও অবশ্য দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি আছে।
একই রেকর্ড আছে পাঁচজনের- ব্রাজিলের পেলে (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০), কাফু (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) ও রোনালদো (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও পিয়েরে লিটবারস্কি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০)।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ম্যাচ ও মিনিট খেলার রেকর্ড: মেসি আগেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬ ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছেন। যা তিনি ২০২৬ আসরে আরও বাড়িয়ে নিতে পারেন। তালিকায় তার পরের অবস্থানে থাকা তিনজনই অনেক আগে অবসরে গেছেন- লোথার ম্যাথাউস (২৫), মিরোস্লাভ ক্লোসা (২৪) ও পাওলো মালদিনি (২৩)।
২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে একটি দল সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলতে পারবে। ফলে মেসি এই ব্যবধান অনেক বাড়িয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডও তার দখলে, ২৩০০ মিনিট। ২০২৬ বিশ্বকাপে যা উঁচুতে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে।