যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত, উত্তেজনা তুঙ্গে
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত, উত্তেজনা তুঙ্গে
editor
প্রকাশিত জুন ১৪, ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় ভারত–যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বেসামরিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
Manual5 Ad Code
এনিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেন, গালফ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিয়ে ভারতের কঠোর আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করছি। বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
ভেস্তে যেতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি
তবে ভারতের প্রতিবাদ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি উল্টো সতর্ক করে বলেছে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হতে পারে।
মার্কো রুবিও বলেন, মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন এবং ইরানি তেলের অবৈধ পরিবহন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুবিও’র অনুতাপহীন প্রতিক্রিয়া ভারতের সর্বস্তরে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
গত এক সপ্তাহে ভারতীয় নাবিকদের পরিচালিত তিনটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Manual8 Ad Code
রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, এই হামলা নিয়ে ভারতের ক্ষোভ সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
Manual2 Ad Code
এনিয়ে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, সরকারি মার্কিন এই বিবৃতিটি পড়ে আমি গভীরভাবে হতবাক হয়েছি, যেখানে নিরীহ ভারতীয় প্রাণহানির জন্য কোনো ধরনের দুঃখ বা সমবেদনা প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার কীভাবে এতটা সংবেদনশীলতাহীন হতে পারে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবালও একইভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, একজন ঘনিষ্ঠ অংশীদারের কাছ থেকে ভারতের যা প্রত্যাশা করা উচিত, রুবিওর মন্তব্য তার থেকে অনেক কম।
তিনি বলেন, রুবিওর কঠোর প্রতিক্রিয়া, যা কার্যত ভারতীয় নাবিকদের হত্যাকে পরোক্ষভাবে যৌক্তিকতা দেয়ার মতো মনে হয়েছে।
Manual3 Ad Code
অন্যদিকে মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর মন্তব্য ইতিমধ্যেই টানাপোড়েনের মধ্যে থাকা ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ডেরেক জে. গ্রসম্যানও রুবিওর বক্তব্যের ভাষা ও বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রুবিওর কথা ছিল অত্যন্ত সংবেদনহীন, যা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে তুলবে।