সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি : চ্যালেঞ্জ, উদ্বেগ ও আশার আলো
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি : চ্যালেঞ্জ, উদ্বেগ ও আশার আলো
editor
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া:
বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানীখ্যাত সিলেট নগরী দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপ্রিয়, সংস্কৃতিমনা ও সম্প্রীতির এক অনন্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে সংঘটিত কিছু মর্মান্তিক ঘটনা জনমনে উদ্বেগ ও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে এক র্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধ এবং কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম এবং পুলিশ কমিশনার জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম-এর আন্তরিক ও দৃঢ় নেতৃত্ব বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি সংঘটিত র্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার শামিল। একইভাবে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিক মূল্যবোধের সংকটকে সামনে নিয়ে আসে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ যেমন বিচলিত, তেমনি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জোরালো হয়েছে। কারণ অপরাধ দমনে শিথিলতা সৃষ্টি হলে সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, বিশেষ অভিযান পরিচালনা, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাট, মহাসড়ক, বিপণিবিতান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। ঈদকেন্দ্রিক ছিনতাই, চাঁদাবাজি, যানজট, মাদক ও কিশোর গ্যাং তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতি জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনার জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের সমন্বয়ে একটি কার্যকর পুলিশি পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরাধ দমনের পাশাপাশি তিনি জনবান্ধব পুলিশিং, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন সিলেটবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
তবে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক চেতনার বিকাশ ছাড়া অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন কঠিন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবমুক্তভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, আইনের আওতায় আসে।
সিলেটের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শান্তি ও নিরাপত্তা কোনো স্বয়ংক্রিয় বাস্তবতা নয়; এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও কার্যকর নেতৃত্বের ফল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা যেমন জরুরি, তেমনি জনগণের সহযোগিতাও অপরিহার্য। আশা করা যায়, প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ, পুলিশের আন্তরিকতা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয়ে সিলেট আবারও তার স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পাবে।
লেখক পরিচিতি: উৎফল বড়ুয়া, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।