আজ মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো গ্রামবাসী

editor
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো গ্রামবাসী

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ওই এলাকার বাসিন্দারাও পুশইন ঠেকাতে তৎপর।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ।

জানা গেছে, সীমান্তে বিভিন্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে জড়ো করে ছোট যানবাহনে করে সীমান্তের কাছাকাছি এনে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হয়নি।

Manual1 Ad Code

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৪৭ বিজিবির আওতাধীন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

Manual7 Ad Code

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবলও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

Manual4 Ad Code

বিজিবি সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে।

পুশইন প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদারপুশইন প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের নজরদারি জোরদার
দৌলতপুর সীমান্তে চিলমারী ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিরুল ইসলাম জানায়, ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনও হতে দেব না। বিজিবি যেভাবে দিন-রাত টহল পরিচালনা করছে, তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমরাও সীমান্তবাসী হিসেবে বিজিবির সঙ্গে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, আমার দায়িত্বপূর্ণ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই তা সমর্থন করিনি। সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জনবল বাড়ানো হবে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

কর্নেল রাশেদ কামাল রনি আরও জানান, এই অস্থিরতার মধ্যে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য সীমান্ত এলাকার মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।