আজ মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপের ১৮৬৮ জনকে চাকরি থেকে ছাঁটাই

editor
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ণ
সাভারে ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপের ১৮৬৮ জনকে চাকরি থেকে ছাঁটাই

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘আল মুসলিম’ গ্রুপের সাভারের ৩টি কারখানা থেকে এক হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে উলাইল এলাকায় একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে এক হাজার ২৮৬, রেডিও কলোনি এলাকায় প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার থেকে ৫২৯ ও আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

আল-মুসলিম গ্রুপের উপ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় এসব কারখানা থেকে এক হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার দুটি কারখানার সামনে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের অনেককে কারখানার সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। অনেককে কারখানার ফটকের পাশের দেয়ালে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের তালিকা দেখছেন। কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের দাবি, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয়নি। ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

Manual8 Ad Code

সাভারের উলাইল এলাকার কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটির আগে আমাদের ২০ দিনের বেতন দেয়। আমাদের কোনও নোটিশ না দিয়া ছাঁটাই করা হইছে। আজকে (শনিবার) শুনি আমার চাকরি নাই। ওভার টাইম করতে হয়, আর তারা বলে কাজ নাই।’

কারখানার শ্রমিক নাজমা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর ধরে হেলপার হিসেবে কাজ করি। ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেছিলাম। ছুটি শেষে সকালে কারখানায় ঢুকছি তারা (কারখানা কর্তৃপক্ষ) আমার আইডি কার্ড নিয়া গেছে, চাকরি নাই কইয়া কইছে মোবাইলে মেসেজ দেখনে গা। বাসায় গিয়া মোবাইলে দেখি কোন মেসেজ নাই।’

Manual1 Ad Code

একাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২০ ধারা অনুসারে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। তবে এ ধরনের ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ২১ ধারা অনুসারে ছাঁটাই করা শ্রমিকদেরকে পরবর্তিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন সাপেক্ষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে, সেটির নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান কী হবে সেটি নিয়ে ভাবা দরকার ছিল। অন্য সেক্টরে যতো সময় যাবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক দক্ষ হয়ে উঠবেন তার চাকরির নিশ্চয়তা ততো বেশি। তবে গার্মেন্টস সেক্টরে এর উল্টোটা হয়। এ ছাড়া যাদের ইনক্রিমেন্ট এবং গ্রেড বৃদ্ধি পাওয়ায় বেতন বেড়ে যায় তাদের ছাঁটাই করা হয়।’তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন