আজ বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ হত্যা করেছি–ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়

editor
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ণ
পুলিশ হত্যা করেছি–ঘোষণা দেওয়া সেই মাহাদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি’ বলে থানায় ওসির সামনে বসে হুমকি দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহাদী হাসান। পাঁচ মাসের মাথায় সেই মাহাদীই নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানা পুলিশের কাছে।

ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছেন অভিযোগ করে মাহাদী আজ বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন। প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানান।

Manual1 Ad Code

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান লাইভে দাবি করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে।

Manual5 Ad Code

আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তার পরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম।

Manual4 Ad Code

আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’
মাহাদী হাসানের দাবি, তিনি আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা তাকে আশ্বস্তও করেছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন মাহাদী হাসান। তাকে দম্ভ নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন মাহাদী হাসান।

Manual7 Ad Code

এ ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছেই আশ্রয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মাহাদী। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।’

ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহাদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।’তথ্য সুএঃ কালের কন্ঠ