আজ শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জয়শঙ্কর যা বললেন

editor
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ণ
মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জয়শঙ্কর যা বললেন

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা ছাড় যাই থাকুক না কেন, নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে দিল্লি।

পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ফিনল্যান্ড সফরকালে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঘন ঘন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং প্রত্যাহারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

২০২২ সালে ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে গেলে ভারত রুশ তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে।

Manual3 Ad Code

ফিনল্যান্ডের কুলতারান্তায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, “সে সময় জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিল।”

ভারতের বিরুদ্ধে ‘রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল’ এবং ‘রুশ তেল কিনতে বেশি আগ্রহী’ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এক সাংবাদিক। তার জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মূলত দাম এবং সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই তেল কিনি।”

Manual7 Ad Code

জয়শঙ্কর বলেন, “সে সময় বাজারে রাশিয়ার তেলই ছিল সহজলভ্য। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো মূলত পশ্চিম এশিয়ার তেল কিনে নিচ্ছিল, যা ছিল আমাদের ঐতিহ্যগত জ্বালানি উৎস। উদ্ভূত পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দিয়েছিল।”

রাশিয়াকে ‘নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী নীতির সমালোচনা করেন এবং এই বিষয়টিকে ‘অতিরিক্ত নৈতিকতার চাদরে’ না ঢাকার আহ্বান জানান।

জয়শঙ্কর বলেন, “এখন আপনারা দেখছেন, রুশ তেল কেনার জন্য প্রথমে আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তাই এখানে কোনো মহান আদর্শ জড়িয়ে আছে–এমন ভান করার দরকার নেই। এ বিষয়টিকে ভণ্ডামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।”

গত বছর ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রুশ তেল কেনার জরিমানা। পরে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ও মার্কিন আদালতের রায়ের পর তা কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

এদিকে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন নিজেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রপথে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেয়।

তবে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন ছাড় থাকুক বা না থাকুক, তারা নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।

বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর।

তিনি বলেন, “ইউরোপ এমন সব দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যা ভারতের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত হয়। অথচ ভারতীয়রা কখনোই ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করার মত কিছু করেনি।”

Manual7 Ad Code