আজ সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুশ ইন’ ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যে অস্বীকৃতি শুভেন্দু অধিকারীর

editor
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
পুশ ইন’ ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যে অস্বীকৃতি শুভেন্দু অধিকারীর

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংসদে কোনো বিষয় উত্থাপিত হলে সে বিষয়ে মন্তব্য করার দায়িত্ব তার নয়; এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বক্তব্য দেবে।

শুক্রবার কলকাতার উপকণ্ঠ নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় ‘পুশ ইন’ ইস্যু এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

Manual7 Ad Code

ভারতের দৃষ্টিতে যাকে ‘পুশ ব্যাক’ বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সেটিই ‘পুশ ইন’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় এলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’-এর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করছে। একই সঙ্গে আগামী ১৪ জুন জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একটি বাইরের দেশের সংসদে কোন বিষয় উত্থাপন করা হবে, সেটা আপনার মুখ থেকে শুনছি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। যদি এমন কিছু হয়ও, তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নয়, আরও পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজন হলে তারাই মন্তব্য করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য আহমেদ হাসান ইমরানকে নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘উনি (কাকলি ঘোষ দস্তিদার) চিঠি লিখেছেন কি না, সেটা আমার জানা নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলত—এ কথা আমরা বিরোধী দল হিসেবে বহুবার বলেছি। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করা আমার পক্ষে ঠিক হবে না। যেহেতু বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গেছে, তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোই তা দেখবে। তারা যদি কোনো ধরনের সহায়তা চায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে।’

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের বিষয়েও কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ‘চিকেন নেক’ করিডরের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শেষ করা হবে। কারণ এটি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়।’

Manual8 Ad Code

 

Manual8 Ad Code