অপহরণ চেষ্টার মামলায় নারায়ণগঞ্জে ডিবির চার সদস্য গ্রেপ্তার, গণপিটুনি
অপহরণ চেষ্টার মামলায় নারায়ণগঞ্জে ডিবির চার সদস্য গ্রেপ্তার, গণপিটুনি
editor
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গণপিটুনির শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী এক তরুণ গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউসিয়া এলাকায় অমিত হাসান মিরাজ নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হন ডিবি পুলিশের সদস্য মামুন, আমান ও কবির। পরে তাদের পাশের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
Manual4 Ad Code
নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী বলেন, তারা পুলিশি হেফাজতে সেখানে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার ভোররাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কনস্টেবল আকাশকে।
মামলার বাদী অমিত হাসান মিরাজ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজারের এরশাদ আলীর ছেলে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের ফিল্ড সুপারভাইজার ছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়াতে বর্তমানে তিনি বেকার বলে জানান।
Manual8 Ad Code
মামলার এজাহারে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে গাউসিয়া এলাকায় যান। সেখানে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিআইডির সদস্য পরিচয় দিয়ে গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যসহ তাদের আরও দুজন সহযোগী তাকে অপহরণের চেষ্টা চালান।
Manual3 Ad Code
“অনলাইন ক্যাসিনোর তদন্তের কথা বলে গাউসিয়ার একটি পাবলিক টয়লেটে তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমার মোবাইল চেক করেন। মোবাইলে কিছু না পেয়ে আমাকে তাদের সঙ্গে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে চাইলে আমি চিৎকার করি। তখন আশেপাশের লোকজন তাদের ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে গণপিটুনি দেয়।”
ঘটনার সময় অভিযুক্তরা সাদা পোশাকে ছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগী অমিত। তাদের সাদা পোশাকে থাকার বিষয়টি রূপগঞ্জ থানা পুলিশও জানিয়েছেন।
মামলায় অমিত বলেছেন, ১৫ জুন তার এক আত্মীয়কেও একই পুলিশ সদস্যরা অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন। এক মাস আগেও জাকির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তিকেও একইভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে।
অমিত শুক্রবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মোবাইলে বলেন, “আগের অপহরণের ঘটনায় যে তারাই যুক্ত ছিলেন, তা আমার ঘটনার পর আমার আত্মীয়-স্বজনদের খবর দিলে জানতে পেরেছি। তারা কখনো সিআইডি, কখনো ডিবির নামে অপহরণ করে লোকজনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতেন।”
অমিতের অপহরণ চেষ্টার মামলায় চার পুলিশ সদস্যের দুই সহযোগী গাড়িচালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) ও মো. সেলিম (৪৫) পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন।
Manual5 Ad Code
“তাদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রক্রিয়া চলছে।”তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর