আজ সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা; প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত, ফুসফুস বের হয়ে ছিল মেজো মেয়ের

editor
প্রকাশিত জুন ২৫, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা; প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত, ফুসফুস বের হয়ে ছিল মেজো মেয়ের

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি আবাসিক ভবনে প্রবেশ করে মা ও তার তিন কন্যাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

Manual2 Ad Code

হামলায় এক মেয়ের শারীরিক অবস্থা এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল যে তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে আসে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন কন্যা সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)।

বিকেলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, ঘটনার পর আহত অবস্থায় পাঁচজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত শাহিনুর ও তার তিন কন্যাসন্তানের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। বিশেষ করে মেজো মেয়ে ইকরার আঘাত ছিল অত্যন্ত বিভীষিকাময়, তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে থেকে দৃশ্যমান হচ্ছিল।

Manual7 Ad Code

চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা প্রথমে শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে সায়মা এবং ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ঢাকায় পৌঁছানোর পূর্বেই পথিমধ্যে সে-ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ছাড়া ঘাতক অন্তর মজুমদারের মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল। তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর মজুমদার পূর্বে প্রায় দেড় বছর ওই একই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। আনুমানিক ৭ থেকে ৮ মাস আগে সে সেখান থেকে বাসা পরিবর্তন করে চলে যায়। পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে সে অনায়াসে বাসায় প্রবেশ করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো উদঘাটিত হয়নি। পুরো ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Manual8 Ad Code

রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহগুলো বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাদের আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা এলে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবেৎ

এদিকে, এই ভয়ংকর ও আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ছেলে সিফাত তার মা ও তিন বোনকে একসাথে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তার এই গভীর শোক ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় চরম শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক