আজ রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা,  সুপ্রিম কোর্টে শোকের ছায়া, সীমিত করা হলো বিচারিক কার্যক্রম

editor
প্রকাশিত জুলাই ১২, ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ণ
সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা,  সুপ্রিম কোর্টে শোকের ছায়া, সীমিত করা হলো বিচারিক কার্যক্রম

Manual8 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, সাবেক মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশের বিচারাঙ্গনে শোকের আবহ নেমে এসেছে। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে রোববার সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম আংশিকভাবে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Manual2 Ad Code

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আপিল বিভাগের কার্যক্রম বেলা ১১টা পর্যন্ত এবং হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া চেম্বার জজ আদালতের কার্যক্রম পুরোদিন বন্ধ থাকবে।

Manual7 Ad Code

এদিকে প্রবীণ এই রাজনীতিক ও আইনজীবীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক শোকবার্তায় প্রধান বিচারপতির শোক প্রকাশের বিষয়টি জানানো হয়। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আজ রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জমির উদ্দিন সরকার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

Manual5 Ad Code

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জন্ম নেওয়া জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি নেন। পরে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন। দেশে ফিরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

Manual8 Ad Code

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আইনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান যুক্ত হয়।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর কয়েক মাস দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।

রাষ্ট্র, রাজনীতি ও বিচারাঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ অবদানের কারণে জমির উদ্দিন সরকারকে বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী সমাজ এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন স্তরে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।