ভোলায় শৈল্পিক রূপে ১১৮টি মন্ডপ, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ব্যস্ত প্রশাসন
ভোলায় শৈল্পিক রূপে ১১৮টি মন্ডপ, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ব্যস্ত প্রশাসন
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
গাজী তাহের লিটন, ভোলা জেলা প্রতিনিধি
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ফুটিয়ে তোলার শেষ পর্যায়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন জেলার প্রতিমা শিল্পীরা।
Manual1 Ad Code
জেলায় এবার ১১৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পূজাকে সামনে রেখে জেলার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
ভোলার জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, এবছর ভোলা জেলার সাত উপজেলা ও তিনটি প্রশাসনিক থানায় ১১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে জেলার অধিকাংশ পূজামণ্ডপের প্রতিমা গড়ার মূল কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতিমা রং করার কাজে মণ্ডপগুলোতে চলছে কারিগরদের ব্যস্ততা।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর দুর্গোৎসবে দ্বিগুণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সাজসজ্জা, প্রতিমা তৈরির কারিগর ও আয়োজকদের।
সরেজমিন ভোলা সদরের পাঁচ তহবিল, ওয়েস্টার্ন পাড়া, বাপ্তা, কালীনাথ রায়ের বাজার, কালীবাড়ি ও চরনোবাদ মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, সামনে পূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় রাত-দিন চলছে সাজ-সজ্জার ধুম। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে রংতুলির কাজ, আবার কোথাও কোথাও চলছে সাজ-সজ্জা, প্যান্ডেল ও ডেকোরেশনের কাজ। জেলায় এ বছর ১১৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরিতে দ্বিগুণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন পূজা উদযাপনের আয়োজকরা।
আয়োজক ও প্রতিমা কারিগররা বলেন, পূজার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধি হলেও সাজসজ্জার কাজ খুব আকর্ষণীয়ভাবেই করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্দির ঘুরে আরো দেখা গেছে, শুধু মণ্ডপগুলোতেই নয়; জেলার সনাতন ধমার্বলম্বীদের বাড়ি বাড়িতেও চলছে উৎসবের আয়োজন। উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনে পূর্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি নতুন পোষাক কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত শিশু থেকে সব বয়সের মানুষ।
Manual7 Ad Code
জেলার ৭০ শতাংশ দুর্গাপূজার মণ্ডপ ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নিজস্ব সেচ্ছাসেবী কর্মী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করবে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।
ভোলা সদরের ওয়েস্টার্ন পাড়া মিহির লাল সাহার মাঠ দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি গোপাল সাহা বলেন, এবারের দুর্গাপূজা অন্যবারের চেয়ে জাঁকঝমকপুর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা করছি; তাছাড়া পূজা সফল করতে প্রশাসন কর্তৃক ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
Manual7 Ad Code
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা বলে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে স্পেশাল ভলান্টিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Manual1 Ad Code
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউছার বিপিএম বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজায় জেলাব্যাপী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্য, গোয়েন্দা পুলিশ ও আনসারসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার ও বিশেষ নজরদারিতে রাখবে।
সব মিলিয়ে ভোলায় এবারের দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিশ্চিন্ত মনে তাদের এ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।