হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ; ৯ গুলিতে আহত উল্লেখ করে মামলা, তদন্তে উঠে এল ‘ঘটনাই ঘটেনি’
হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ; ৯ গুলিতে আহত উল্লেখ করে মামলা, তদন্তে উঠে এল ‘ঘটনাই ঘটেনি’
editor
প্রকাশিত October 31, 2026, 03:49 PM
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীরে নয়টি গুলি লাগার বানোয়াট দাবি এবং ভুয়া চিকিৎসাপত্র দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বিস্তারিত তদন্তে মামলার বাদী নূর হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা, ঘটনার দিন তিনি কোনোভাবেই আহত হননি বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এ প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার মোট ৮৪ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ম্যাজিস্ট্রেট নথি পর্যালোচনা করে বাদীর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দেন এবং আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
মামলার নথিপত্র ও পুলিশ সূত্র জানায়, এজাহারে নূর হোসেন দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি নির্বিচার হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান পায়ের হাঁটুর পাশে একটিসহ মোট নয়টি গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আসামিদের ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন তিনি।
Manual6 Ad Code
জাল চিকিৎসাপত্রে সাজানো নাটক ফাঁস
পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাদী নূর হোসেন এজাহারের সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসার যে ব্যবস্থাপত্র ও কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি জাল। হাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, উল্লিখিত তারিখে নূর হোসেন নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি।
প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দুটি গুরুতর অসংগতি তুলে ধরেন। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সব সময় হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দেন, কিন্তু নূর হোসেনের দাখিলকৃত নথিটি ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসাপত্রে ব্যবহৃত ক্যাশ মেমো নম্বরটি যাচাই করে দেখা যায় সেটি আব্দুস সাত্তার নামের ৫৪ বছর বয়সী এক ভিন্ন রোগীর নামে বরাদ্দ। এছাড়া যে পেশেন্ট আইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল, তা ছিল জুয়েল নামের ৩২ বছর বয়সী অন্য এক ব্যক্তির।
এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক গেজেটেও নূর হোসেনের নামের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাদী বাস্তবে আহত না হয়েও অসৎ উদ্দেশ্যে আহত হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এ মামলা করেছেন।
Manual4 Ad Code
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সময়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আট আসামিকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নতুন করে কাউকে এ মামলার এজাহারের ভিত্তিতে সরাসরি আটক করা হয়নি।
তদন্তে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।
Manual8 Ad Code
মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার দায়ে বাদীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উক্যমং রাখাইন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক