শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হলেও শনিবার ক্লাস চলবে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হলেও শনিবার ক্লাস চলবে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
editor
প্রকাশিত মে ২২, ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual6 Ad Code
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হচ্ছে। তবে এই ছুটিতেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শনিবার ক্লাস নেওয়ার সরকারি নির্দেশনায় তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ।
Manual6 Ad Code
শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৪ মে থেকে ছুটি শুরুর কথা থাকলেও, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কার্যত বৃহস্পতিবারই (২১ মে) ক্লাস শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির আমেজ শুরু হয়েছে।
সরকারের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানে সৃষ্ট শিক্ষাসময়ের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শনিবার খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, রমজানের সময় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি—সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ ছিল। তাহলে শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের ওপর কেন এই বাড়তি চাপ দেওয়া হচ্ছে?
প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি সংগঠনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “আমরা ২৩ মে থেকে ছুটি ঘোষণার জন্য আগেই আবেদন করেছিলাম, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। শিক্ষকদের মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত না করে গুণগত মানসম্পন্ন পাঠদান সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপপরিচালক জয়নাল আবেদীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮১ জন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। ছুটির এই সময়ে শনিবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্তে বিশাল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পড়েছেন বিভ্রান্তিতে।
Manual7 Ad Code
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় রেখে ছুটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে শিক্ষকদের মধ্যে এই ক্ষোভ তৈরি হতো না। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষকের চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না।