পেনশনব্যবস্থায় সংস্কার; পাঁচ বছর চাকরিতে পেনশনের সুযোগ, বাড়ল সর্বোচ্চ হারও
পেনশনব্যবস্থায় সংস্কার; পাঁচ বছর চাকরিতে পেনশনের সুযোগ, বাড়ল সর্বোচ্চ হারও
editor
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে ২০১৫ সালে পেনশনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে সরকার। পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য তৈরি হয়েছে বাড়তি স্বস্তি।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।
প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়।
এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়।
তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন—চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা।
Manual2 Ad Code
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়।
৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
Manual4 Ad Code
চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।
Manual4 Ad Code
এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়।
প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।
পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও আনা হয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
অবসর সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।
Manual5 Ad Code
প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন। গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।সুএঃ কালের কণ্ঠে