আজ শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরিজীবীদের একাধিক সুবিধা বাড়ল

editor
প্রকাশিত জুন ১৯, ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিজীবীদের একাধিক সুবিধা বাড়ল

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে সরকার. সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন পদক্ষেপ।

Manual5 Ad Code

এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Manual3 Ad Code

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ও হার বৃদ্ধি: নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী- পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

Manual2 Ad Code

এতে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসর শেষে তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়— যেখানে ৫ বছরে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকাল সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে— যেমন চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা বা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানো।

অবসরভোগীদের জন্য পেনশন বৃদ্ধি: ২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আনুতোষিক ও মৃত্যুজনিত সুবিধা: চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) হিসাবেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবার বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিধান রাখা হয়। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

Manual6 Ad Code

পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল: পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ছুটি নগদায়নে বড় সুবিধা: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়ন সুবিধা বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

কার্যকারিতা ও মূল্যায়ন: প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন।