আজ সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি, আমি এক হতভাগা বাবা: বাড়ি ফিরে সাদ্দাম

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি, আমি এক হতভাগা বাবা: বাড়ি ফিরে সাদ্দাম

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual8 Ad Code

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ৫ দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে তিনি বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান। এসেই তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বাড়িতে পৌঁছেই সাদ্দাম তার শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার ও শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভসহ স্থানীয়দের নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করেন। কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদেন তিনি। এ সময় স্ত্রী-সন্তানের রুহের মাগফেরাত কামনায় নিজেই মোনাজাত পরিচালনা করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোনাজাতে সাদ্দাম বলেন, ‘আমি এক হতভাগা স্বামী, আমি এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। আল্লাহ তুমি আমার স্ত্রী-সন্তানকে ক্ষমা করে দাও। আমার স্ত্রী যদি হত্যার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার বিচারের ব্যবস্থা করো।’

মোনাজাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাদ্দাম বলেন, ‘কারাগারে যাওয়ার পর আমাকে যশোর কারাগারে দেয়া হয়েছে। তখন আমার স্ত্রী মনে করেছে, আমি আর কখনও বের হতে পারব না। আমি মনে করি এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনেকবার জামিন চেয়েছি, জামিন হয়নি। আমি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি, আজ আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেয়া হলো।’ এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাতের সময়সীমা ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: জামিনে মুক্তি পেয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করলেন ছাত্রলীগের সেই সাদ্দাম

Manual8 Ad Code

মোনাজাত ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর শ্বশুরবাড়িতে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন সাদ্দাম। পরে একটি সাদা হাইয়েস গাড়িতে করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

এর আগে এদিন দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জুয়েল হাসান সাদ্দাম। গত সোমবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মানবিক বিবেচনায় তার ৬ মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে আনা হয়। পরে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হলে সেখানে স্ত্রী-সন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন রাতেই তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

Manual8 Ad Code