আজ শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবির হেফাজতে’ মারা যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মীর ভিডিও ভাইরাল, কী ঘটেছিল

editor
প্রকাশিত জুন ২৬, ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ণ
ডিবির হেফাজতে’ মারা যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মীর ভিডিও ভাইরাল, কী ঘটেছিল

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ‘ডিবি পুলিশের হেফাজতে’ ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ২৬ জুন) রাত থেকে ফেসবুকে তার আটকের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি ঘিরে ডিবির অভিযানের ধরন এবং ইশতিয়াকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ২১ জুন বিকাল ৫টার দিকে গোন্দারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ইশতিয়াক। তার পরনে ছিল লুঙ্গি, কাঁধে ছিল একটি ল্যাপটপের ব্যাগ। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি (যাদের স্থানীয় লোকজন ডিবি পুলিশের সদস্য বলে দাবি করছেন) ইশতিয়াককে ঘিরে ধরেন।

লাল রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি প্রথমে ইশতিয়াকের গতি রোধ করেন এবং তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরে সাদা টি-শার্ট পরা আরেক ব্যক্তি এসে ইশতিয়াককে ধরে তল্লাশি শুরু করেন। ভিডিওর ১৪ সেকেন্ডের মাথায় ইশতিয়াককে দুই হাত দিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

Manual2 Ad Code

ভিডিওর ৩৬ সেকেন্ডে সাদা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে গালি দিয়ে ইশতিয়াককে থাপ্পড় দিতে দেখা যায়। এ সময় লাল টি-শার্ট পরা অপর ব্যক্তি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মারিস না।’

Manual4 Ad Code

ভিডিওর ৪৩ সেকেন্ডের সময় ছাইরঙের চেক শার্ট পরা আরেক ব্যক্তিকে মোবাইলে বলতে শোনা যায়, ‘লাঠি নিয়ে মরিচবাজার এলাকায় আসেন, দ্রুত আসেন।’ পরে তাকেও ইশতিয়াকের দেহ তল্লাশির কাজে অংশ নিতে দেখা যায়।

Manual2 Ad Code

ভিডিওর ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে আসে। সেখান থেকে নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন এসে অভিযানে যুক্ত হন। ভিডিওর দুই মিনিট সাত সেকেন্ডের সময় ছাইরঙের শার্ট পরা ব্যক্তিকে কিছু একটা দেখিয়ে ‘এই যে এক টোপলা’ বলতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বস্তুটি ইশতিয়াককে তল্লাশির স্থান থেকে কিছুটা দূরে ছিল।

Manual6 Ad Code

এ ব্যাপারে ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার জানান, আটকের পর ডিবির সদস্যরা তার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যান। সেখানে নারী সদস্য দিয়ে তাকেও তল্লাশি করা হয়। পরে বাড়িঘর তল্লাশি করে ইশতিয়াককে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে ৬৫ হাজার টাকা দিলে ইশতিয়াককে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তাদের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা হয়েছিল। পরে ডিবি জানায়, এ ছেলে ছাত্রলীগ করে, আজ তাকে ছাড়া হবে না। পরদিন সকালে এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যেতে বলা হয়।

খাদিজা আক্তার বলেন, ‘সকালে আমি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যাই। পরে শুনি আমার ছেলেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলের লাশ পাই। জীবিত ছেলেকে আমাদের সামনে নিয়ে গেল, পরে তার লাশ পেলাম।’

তবে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে ইশতিয়াককে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর ২২ জুন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশতিয়াককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জেনেছেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ হেফাজতে কোনও ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।
তবে ইশতিয়াকের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া। তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন