গিলের দাপুটে ব্যাটিং, আফগানিস্তানকে হারিয়ে ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
গিলের দাপুটে ব্যাটিং, আফগানিস্তানকে হারিয়ে ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
editor
প্রকাশিত জুন ১৪, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
বিশ ওভারের ক্রিকেট হোক কিংবা টেস্ট অথবা ওয়ানডে, গায়ের পোশাক সাদা কিংবা রঙিন- সব জায়গায় একইরকম দ্যুতিময় শুবমান গিল। দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যান রান তাড়ায় খেললেন দুর্দান্ত ইনিংস। অধিনায়কের বীরোচিত ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে গিলের দলের জয় ৭ উইকেটে।
ধারামসালায় শনিবার (১৩ জুন) বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ২৫ ওভারে। রাহমানউল্লাহ গুরবাজের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পরও আফগানিস্তান ১৯৪ রানে অলআউট হয় এক বল বাকি থাকতে।
ভারত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৩ বল হাতে রেখে।
১১ চার ও দুই ছক্কায় ৬৬ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন গিল। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনিই।
এই ইনিংসের পথে ওয়ানডেতে ভারতের হয়ে দ্রুততম ও সব দেশ মিলিয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম তিন হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন গিল। এজন্য তার লাগল ৬২ ইনিংস। ৫৭ ইনিংসে তিন হাজার ছুঁয়ে বিশ্ব রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকান গ্রেট হাশিম আমলার।
গত আইপিএলের প্লে-অফে সেঞ্চুরির পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও একই স্বাদ পান গিল। সেই ফর্ম এবার ওয়ানডেতেও বয়ে আনলেন ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
রান তাড়ায় প্রয়োজন ছিল শুরু, গিল ও রোহিত শার্মার ব্যাটে সেটিই পায় ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৪৬ রান।
সবচেয়ে বেশি বয়সে ভারতের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নামা রোহিত রান আউটে কাটা পড়েন গিলের সঙ্গে মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝিতে। ১৬ বলে ১৬ রানের ইনিংসের পথে দ্বিতীয় ভারতীয় ওপেনার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। প্রথমজন ভিরেন্দার শেবাগ।
গিল দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান। তার ব্যাটে বাউন্ডারি আসতে থাকে নিয়মিত। ফিফটি করেন ৩৭ বলে। তিন নম্বরে নেমে অধিনায়কের সঙ্গে ৭০ রানের জুটির পথে ২২ বলে ৪৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন ইশান কিষান।
ভারতের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়া শ্রেয়াস আইয়ারকেই যা একটু নড়বড়ে মনে হয়েছে। ১৫ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন তিনি।
গিলের সেঞ্চুরিও সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল একটা সময়। তবে লোকেশ রাহুলের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সেই পথে আর হাঁটা হয়নি অধিনায়কের। অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটিতে রাহুলের একার অবদানই ১৯ বলে ৩৯।
বোলিংয়ে আফগানিস্তান কখনোই ছন্দ খুঁজে পায়নি। উইকেট পেতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। রাশিদ খান কিছুটা খরুচে থাকলেও একটি উইকেট নিয়েছেন। পেসাররা অনেক রান দিয়েছেন।
Manual3 Ad Code
ভারতের হয়ে এ দিন ওয়ানডে অভিষেক হয় পেসার গুরনুর ব্রার ও স্পিনিং অলরাউন্ডার হার্শ দুবের, আফগানিস্তানের হয়ে জিয়াউর রাহমানের।
বৃষ্টি বাধায় নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। প্রথম ওভারে চার ও ছক্কা মেরে শুরু করেন গুরবাজ। তবে অন্য প্রান্তে প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই বিদায় নেন ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকউল্লাহ আটাল ও রেহমাত শাহ।
তাদের মাঝে গুরবাজও আউট হতে পারতেন ১২ রানে, যদি এলবিডব্লিউয়ের জন্য রিভিউ নিতো ভারত।
Manual3 Ad Code
কিছুটা সময় নিয়ে পরে ঝড় তোলেন গুরবাজ। তার ব্যাটেই ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। ২৫ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া ওপেনার তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৪৮ বলে।
Manual6 Ad Code
ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি, ভারতের বিপক্ষে যেকোনো দলের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম।
১৫ ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৪০ রান। ২১০-২০ রানের স্কোরে দৃষ্টি থাকার কথা তাদের। কিন্তু গুরবাজের আউটের পর বদলে যায় চিত্র।
নবন ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরের ওভারেই নিতিশ কুমার রেড্ডির ইয়র্কারে বোল্ড হন গুরবাজ। অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শাহিদির সঙ্গে ৬৬ বলে ১১৬ রানের জুটিতে তার অবদান ৮২।
৩০ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন শাহিদি। তিন ছক্কায় ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়ে ১৬ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই। শেষ দিকে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি মোহাম্মাদ নাবি, রাশিদ খানরা।
Manual4 Ad Code
ঘুরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যটা দুইশর নিচে রাখতে পারে ভারতীয় বোলাররা। অভিষিক্ত গুরনুর ২৭ রানে ও দুবে ৪৭ রানে নেন ৩টি করে উইকেট।
ওয়ানডে অভিষেকে ভারতের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডের তালিকায় গুরনুর আছেন চতুর্থ স্থানে।