আবেদন সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান নাগরিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন: আসক
আবেদন সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান নাগরিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন: আসক
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual7 Ad Code
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার ঘটনাকে নাগরিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে আসক বলছে, ‘জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কেবল কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ঘটনাকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে মনে করছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের-অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকারী; অনুচ্ছেদ ৩১ নাগরিককে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রদান করে; ৩৫(৫) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর দণ্ড বা আচরণের শিকার করা যাবে না। একজন বিচারাধীন বন্দী হিসেবে জুয়েল হাসান সাদ্দাম এসব সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত নন। অথচ তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুজনিত চরম মানবিক পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া এবং জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ অস্বীকার করা কার্যত তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করেছে, যা সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদের সরাসরি ব্যত্যয়।’
এতে বলা হয়, ‘প্যারোলে মুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ১ জুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে- ভিআইপি বা অন্যান্য সকল শ্রেণির কয়েদি বা হাজতি বন্দিদের নিকটাত্মীয়ের যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসন্ততি এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে। এই নীতিমালা প্রশাসনিক বিবেচনার বিষয় হলেও তা ইচ্ছামতো, নির্বিচারে বা কোনো যুক্তি প্রকাশ না করে প্রত্যাখ্যানযোগ্য নয়। এই ক্ষেত্রে পরিবার কর্তৃক আবেদন জানানো সত্ত্বেও ওই বিধান প্রয়োগ না করা আইনের উদ্দেশ্য ও ন্যায্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনেও এই বিষয়ক অধিকার সুরক্ষিত। বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর) এর রাষ্ট্রপক্ষ, তার অনুচ্ছেদ ৭-এ নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে; অনুচ্ছেদ ১০(১) এ বলা হয়েছে, স্বাধীনতাবঞ্চিত সকল ব্যক্তির সঙ্গে মানবিকতা ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করতে হবে। কারাফটকে পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মুখ দেখিয়ে একজন শোকাহত বন্দিকে জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা, আইসিসিপিআর এর উল্লিখিত ধারাসমূহের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’
Manual8 Ad Code
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)মনে করে, কোন আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, তা জানার অধিকার দেশের নাগরিকদের রয়েছে। আইনের শাসন কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়; সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ এবং সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরবতা, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও বৈষম্যমূলক আচরণের গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তা একটি সংবিধানস্বীকৃত, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারসম্মত রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি অপরিহার্য। পাশাপাশি, মহামান্য উচ্চ আদালতের স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহনেরও সুযোগ রয়েছে।’