আজ মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারোল ও জামিন পাওয়া কি সাদ্দামের অধিকার নয়; প্রশ্ন মাসুদ কামালের

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
প্যারোল ও জামিন পাওয়া কি সাদ্দামের অধিকার নয়; প্রশ্ন মাসুদ কামালের

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual2 Ad Code

বাগেরহাটে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে এবার এ নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—একজন আন্ডারট্রায়াল বন্দির ক্ষেত্রে প্যারোল ও জামিন কি মৌলিক আইনি অধিকার নয়, বিশেষ করে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে মানবিক বিবেচনা কি প্রযোজ্য হওয়া উচিত ছিল না?

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বহুল আলোচিত এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে মাসুদ কামাল এ প্রশ্ন তুলেন।

Manual6 Ad Code

মাসুদ কামাল বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যু নিঃসন্দেহে একটি গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি। শিশুহত্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং এটি নৈতিক ও আইনি দুই দিক থেকেই গুরুতর অপরাধ।

Manual7 Ad Code

রাষ্ট্র ও বিচারপ্রক্রিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে বহুবার দেখা গেছে—গুরুতর মামলার আসামিকেও নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে পুলিশ পাহারায় জানাজা বা দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা বদল, আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়স্বল্পতার মতো কারণ দেখানো হলেও জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক সমন্বয় সম্ভব ছিল কি না—সেটিও আলোচনার দাবি রাখে।

Manual7 Ad Code

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রসঙ্গেও মাসুদ কামাল সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু অপরাধীদেরই জেলে রাখা হয়’ এমন বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় মেলে না, কারণ বিচার শেষ হওয়ার আগে বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকেন এবং জামিন পাওয়া আইনের দৃষ্টিতে একটি স্বীকৃত অধিকার।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে জামিন বা আইনি সুবিধা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে গেলে তা আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত।

আইনের শাসনের মূল কথা হলো—অপ্রিয় ব্যক্তি বা প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
মাসুদ কামাল বলেন, ‘একটি শিশুর মৃত্যু, এক তরুণীর আত্মহত্যা এবং এক বাবার কারাগারে বসে পরিবার হারানোর অভিজ্ঞতা এসব কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও আত্মসমালোচনার বিষয়।’

তিনি মনে করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, বিচারাধীন বন্দিদের মানবিক অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত আইনি প্রক্রিয়া—এসব বিষয় নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।