নারায়ণগঞ্জের মিশনপাড়া ও চাষাড়া এলাকার সুপরিচিত সমাজকর্মী এবং রামকৃষ্ণ মিশন-এর সক্রিয় সংগঠক কল্পনা সিং (৫৬) আর নেই। গত ২০ মার্চ শুক্রবার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে প্রো- অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল লিমিটেড -এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার শেষকৃত্য ২১ মার্চ দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে মাসদাইর কেন্দ্রীয় সিটি শ্মশান-এ শুরু হয় এবং ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সম্পন্ন হয়। এ সময় শত শত আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও এলাকাবাসী অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানান।
কল্পনা সিং ছিলেন শ্রী মনমোহন চন্দ্র ও চরণ দাশীর কন্যা। ছয় বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয় ছিলেন। স্বামী নির্মল সিং সহ তিন পুত্র—সুমন সিং, সবুজ সিং ও শুভ সিং এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন তিনি।
এশিয়ান এইজ রেডটাইমস বিডিনিউজ২৪ এর সাংবাদিক স্বপন কুমার সিং তাঁর শোকবার্তায় বলেন,“তিনি শুধু আমাদের পরিবারের সদস্যই( মামী) ছিলেন না, ছিলেন এক অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর হাসিমুখ, আন্তরিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কল্পনা সিং ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এ কে এম ফেরদৌস রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ল্যাব রিপোর্টে ক্রিয়েটিনিন ও ট্রপোনিন-আই এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া যায়, যা কিডনি ও হৃদযন্ত্রের জটিলতার ইঙ্গিত বহন করে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মিশনপাড়া, চাষাড়া, দেবুক, আমলাপাড়া ও পাগলা, ইসদাইর এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে একজন মানবিক, পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী হিসেবে স্মরণ করছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে চারপাশ। বারবার স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠছে তাঁর হাসিমাখা মুখ, স্নেহভরা কথাগুলো, আর সেই আপন করে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা।
কেউ বলছেন, “তিনি ছিলেন পরিবারের বন্ধন,” আবার কেউ বলছেন, “তিনি থাকলে ঘরটাই যেন আলোকিত হয়ে উঠত।” তাঁর অনুপস্থিতিতে আজ প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হচ্ছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
নীরব অশ্রু আর স্মৃতির ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে স্বজনদের হৃদয়। অনেকেই চোখের জল লুকাতে পারছেন না—কারণ এমন মানুষরা চলে যান না, তাঁরা থেকে যান মানুষের ভালোবাসা আর স্মৃতির গভীরে।
তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনায় মগ্ন স্বজনরা—কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে একটাই কথা,
“এতো তাড়াতাড়ি কেন চলে গেলেন?”