বন্ধ ক্যান্টিন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা; ঈদের দিন শাহজালাল বিমানবন্দরে খাবার-পানি সংকট
বন্ধ ক্যান্টিন, ভোগান্তিতে যাত্রীরা; ঈদের দিন শাহজালাল বিমানবন্দরে খাবার-পানি সংকট
editor
প্রকাশিত মে ২৮, ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual5 Ad Code
ঈদুল আজহার দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ট্রানজিট (টিপি) লাউঞ্জে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। একমাত্র ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও পানীয় ছাড়াই অপেক্ষা করতে হয়েছে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের। এতে দুর্ভোগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীরা দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পর ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ডমেস্টিক টার্মিনালের ভেতরে ন্যূনতম খাবার কিংবা পানির ব্যবস্থাও না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে দায়িত্বরত কর্মীদের কয়েক দফা তর্ক ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।
Manual1 Ad Code
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডমেস্টিক এয়ারপোর্টের ভেতরের ওই ক্যান্টিনটি সাধারণত ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে। এমনকি আগের ঈদগুলোতেও এটি কখনো বন্ধ ছিল না। তবে এবার কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্যান্টিন বন্ধ রাখায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।
সৌদি আরব থেকে আসা যাত্রী আবু বকর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই, ভেতরে খাবার নেই, পানি নেই। ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে আমরা চরম কষ্টে আছি। এটা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের চিত্র হতে পারে না।
Manual4 Ad Code
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে আসা কানেক্টিং যাত্রীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে বিমানবন্দরে আসা অভ্যন্তরীণ যাত্রীরাও খাবার ও পানির সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
অনেকেই অভিযোগ করেন, ঈদের দিন হওয়ায় বিমানবন্দরের বাইরে অধিকাংশ দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলেও ভেতরে যাত্রীসেবার ন্যূনতম ব্যবস্থাও রাখা হয়নি।
ঢাকা থেকে যশোরগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রী মোহাম্মদ হানিফ যুগান্তরকে বলেন, সকালে ফ্লাইট ছিল। ঈদের দিন হওয়ায় বাইরে কোথাও কোনো রেস্টুরেন্ট খোলা পাইনি। ভেবেছিলাম বিমানবন্দরে এসে অন্তত নাস্তা আর পানি খাব। কিন্তু এখানে এসে দেখি লাউঞ্জের রেস্টুরেন্টেও তালা ঝুলছে। অথচ বিমানবন্দর তো ২৪ ঘণ্টা যাত্রীসেবা দেওয়ার কথা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ঈদ বা ছুটির দিনেও বিমানবন্দর হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার সেবা খাত। এখানে যাত্রীসেবা বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ট্রানজিট যাত্রীরা তো কার্যত বিমানবন্দরের ভেতরে আটকে থাকেন। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও না রাখা বড় ধরনের ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা।
তিনি আরও বলেন, বিদেশফেরত যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকেই একটি দেশের সেবার মান বিচার করেন। এ ধরনের ঘটনা দেশের বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যাত্রী ইউসুফ আমিন যুগান্তরকে বলেন, বিদেশ থেকে এসে কয়েক ঘণ্টা ধরে বসে আছি। অথচ একটা পানির বোতল কেনারও সুযোগ নেই। ঈদের দিন বলে কি যাত্রীসেবা বন্ধ থাকবে?
এদিকে ডোমেস্টিক টার্মিনালের একমাত্র ক্যান্টিনটি কেন বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অনেক কর্মীও সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। এতে তাদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাক বিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটিতেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক যাত্রীর চাপ থাকে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আসা বহু যাত্রী ডমেস্টিক কানেক্টিং ফ্লাইট ব্যবহার করেন। এমন পরিস্থিতিতে ট্রানজিট লাউঞ্জের একমাত্র খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
ক্যান্টিন কেন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কিনা-এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, এটা মূলত যারা ক্যান্টিন পরিচালনা করে তারাই বলতে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা বন্ধ রেখেছে কিনা, সেটাও আমার জানা নেই।তথ্য সুএঃ যুগান্তর