কুষ্টিয়ায় ৪ মাসের শিশু সন্তান হাদীকে গড়াই নদীতে ফেলে দিয়ে নিজেও ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহত্যার চেষ্টা করেছে মা যমুনা (২২)।শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সদর উপজেলার কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর নীচে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
যমুনা সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার আব্দুল আলিমের স্ত্রী। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, যমুনা প্রথমে ৪ মাসের শিশু সন্তান হাদীকে নদীতে ফেলে দেন এবং পরে নিজেও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় নদীতে অবস্থানরত কয়েকজন নৌকার মাঝি যমুনাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও শিশু হাদিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শিশুটির বাবা আব্দুল আলীম জানান, তার স্ত্রী যমুনা খাতুন সন্তানকে নিয়ে কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর বেলতলা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি সেখান থেকে এসে হরিপুর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রথমে শিশু হাদিকে নদীতে ছুড়ে ফেলেন। পরে নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেন।
তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। সম্প্রতি শিশু হাদি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর পরেই এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশু হাদীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কান্নাকাটি করছেন। এ কারণে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।