আজ শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক; তারা দুই উপজেলার জন্য নিলো ২৫ কোটি, অন্যান্যরা পেলো ১০-১৫ লাখ টাকা— এটা তো বৈষম্য

editor
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ণ
কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক; তারা দুই উপজেলার জন্য নিলো ২৫ কোটি, অন্যান্যরা পেলো ১০-১৫ লাখ টাকা— এটা তো বৈষম্য

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘প্রকল্পের নামে’ জেলা পরিষদের তহবিল থেকে দুটি উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। এই উন্নয়ন বরাদ্দকে চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘ওরা যে টাকাটা নিয়েছে, পারলে বলুক নেয় নাই!’

Manual8 Ad Code

রোববার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে এই ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য প্রকল্পের নামে ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা উনারা নিয়ে গিয়েছেন। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ লাখ, ১৫ লাখ বা ১৮ লাখ টাকা; সর্বোচ্চ কোথাও ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকা এভাবে দুটি উপজেলায় কোটি কোটি টাকা বণ্টন করা আর বাকি উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করা উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। উনারাই মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে নতুন করে এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের সৃষ্টি করেছেন।

Manual1 Ad Code

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই অভিযোগকে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে একটি ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে মো. মোস্তাক মিয়া কিছুটা সুর নরম করে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘টাকাটা উনারা পকেটে ঢুকিয়েছেন বা ব্যক্তিগতভাবে খেয়ে ফেলেছেন—আমি কিন্তু সেটা বলিনি। আমি বলেছি, প্রকল্পের আড়ালে উনারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুটি উপজেলার জন্য ২৫ কোটি টাকার মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নিয়েছেন, যেখানে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অন্য উপজেলাগুলো সামান্য বরাদ্দের জন্য হাহাকার করছে। আমি কেবল এই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে বলতে চেয়েছি। তারা যদি সততার দাবিদার হন, তবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলুক যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে উনারা এই বরাদ্দ নেননি।’

Manual5 Ad Code

তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক

Manual8 Ad Code